০৮ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ৭ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২২:৩৩, ৭ আগস্ট ২০২৬

গ্যাস সংকটে ২২ কারখানায় উৎপাদন কমেছে, ছুটির দিনেও চালু ছিল নিটিং কারখানা

গ্যাস সংকটে ২২ কারখানায় উৎপাদন কমেছে, ছুটির দিনেও চালু ছিল নিটিং কারখানা

গ্যাসের তীব্র চাপ–সংকটে নারায়ণগঞ্জের পোশাকশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে জেলার অন্তত ২২টি কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। তবে শুধুমাত্র গ্যাস সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি।

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি টানা বৃষ্টি ও রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ায় অনেক গার্মেন্টস কারখানা কয়েক দিনের ছুটি দিয়েছে। বুধবার সরকারি ছুটি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবারও জেলার অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ ছিল। তবে ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরীর অধিকাংশ নিটিং কারখানা চালু রেখে থান কাপড় উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়।

বিসিক হোসিয়ারি পল্লী মালিক সমিতির পরিচালক শহীদুল ইসলাম জানান, বিসিকের ৪৬৫টি নিটিং কারখানা বৃহস্পতিবার চালু ছিল। গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাপ কমে যাওয়ার সুযোগে নিটিং কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রহমান গার্মেন্টসের সিনিয়র ডিজিএম শিহাব উদ্দিন বলেন, সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির মাঝে বৃহস্পতিবার ছুটি সমন্বয়ের জন্য আগের সপ্তাহে অতিরিক্ত কাজ করানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, গ্যাসের সংকটে ডাইং কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে গেছে। কাপড় রং ও শুকানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়াও শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪-এর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় ২২টি কারখানায় উৎপাদন ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। তবে গ্যাস–সংকটের কারণে কোনো কারখানা বন্ধ হয়নি। পুলিশ লাইন এলাকায় বন্ধ হওয়া দুটি কারখানা মালিকের আর্থিক সমস্যার কারণে বন্ধ হয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে নয়।

তিনি আরও বলেন, কয়েকটি কারখানায় সীমিত পরিসরে শ্রমিক ছাঁটাই হলেও তা গ্যাস–সংকটজনিত নয়; শৃঙ্খলাজনিত ও প্রশাসনিক কারণেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন কারখানায় নতুন শ্রমিকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, গার্মেন্টস, ডাইং ও সংশ্লিষ্ট শিল্প টিকিয়ে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থায় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় শিল্পখাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

জেলায় বর্তমানে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস, সাব-কন্ট্রাক্ট, ডাইং, নিটিং, প্রিন্টিং, প্রসেসিং ও প্যাকেজিংসহ পোশাকশিল্প–সংশ্লিষ্ট প্রায় ২ হাজার ২০০টি কারখানায় প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়