০৬ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ৫ আগস্ট ২০২৬

ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধের দাবি ছাত্র ফেডারেশনের

ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধের দাবি ছাত্র ফেডারেশনের

সরকারি তোলারাম কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান ছাত্র ফেডারেশনের সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার আহ্বায়ক রাইসা ইসলাম ও সদস্য সচিব মুন্নি আক্তার প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসিকতার সঙ্গে অংশ নেওয়া এবং চারজন শহীদের স্মৃতিবিজড়িত তোলারাম কলেজে পেশিশক্তির প্রদর্শন, সহিংসতা ও রক্তপাতের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠা; তাই এ ধরনের সহিংসতা সেই চেতনার পরিপন্থী।

নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক বা আদর্শিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে সেই মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ানো, ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার বা শক্তি প্রদর্শনের জায়গা নয়; বরং এটি মুক্তচিন্তা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র। তাই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

ছাত্র ফেডারেশন পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে বলেছে, তোলারাম কলেজে সংঘটিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় সব ছাত্রসংগঠনকে নিয়ে ‘পরিবেশ পর্ষদ’ গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পেশিশক্তির প্রদর্শন ও আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সব ছাত্রসংগঠনকে সংযম, সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়