বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির কর্মকাণ্ডে হেফাজত নেতা মাওলানা আউয়ালের ক্ষোভ
বিগত কয়েকদিনের বিভিন্ন দাবি আদায়ে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সহিংসতার ঘটনায় সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির কড়া সমালোচনা করেছেন হেফাজতে ইসলামের নায়েমে আমীর ও ডিআইটি রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি ও দ্বন্দ্ব ভুলে আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধানে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জুমার নামাজের খুতবার আগে ডিআইটি রেলওয়ে কলোনী জামে মসজিদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, “তোমরা বিভিন্ন রকমের সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন রকমের আন্দোলন করতেছ। দেশটাকে আবার অশান্তির দিকে যাচ্ছে। কী একটা অবস্থা করে ফেলছে দেশটার! এত আন্দোলন, এতকিছু। সবাই মিলে আমাদের চব্বিশের সেই সংস্কার আন্দোলন করবা। কী শুরু হয়ে গেল আবার! দুইপক্ষই আবার মারামারি শুরু হয়ে গেল। এত কষ্ট, এত রক্তের বিনিময়ে এ দেশ।”
সমঝোতায় বসার অনুরোধ জানিয়ে হেফাজতের এই নেতা বলেন, “মাঠে এইভাবে মারামারি না করে উভয়ে বসো। দেশের উল্লেখযোগ্য যারা আছে, যাদের মেধা আছে, বুদ্ধি আছে, যারা মানুষকে সঠিক দিক-নির্দেশনা দিতে পারে এমন লোকজন নিয়ে বসো। রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে করে উভয়পক্ষ আসো আবার সেই চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে বাস্তবায়ন করার জন্য বসো। মাঠে-ময়দানে এইভাবে মারামারি করলে হাসিনার তো পোয়াবারো।”
“এইটা কী! কাঁদা ছোড়াছুড়ি, মারামারি। একদল, আরেকদলকে...মাত্র ছয়টা মাস যেতে পারলো না। রাষ্ট্রের মধ্যে একজনকে বসাইছো। তোমরাও বসো। কিছু থেকে কিছু হলেই আউট হয়ে সংসদ থেকে চলে যাও, এইভাবে তো চলবে না। বুদ্ধি দিতে পারে এমন মানুষ এইদেশে আছে এখনো, কিন্তু তাদেরকে ডাকো না,” যোগ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাওলানা আউয়াল বলেন, “এখন ছাত্রদল, শিবির, জামায়াত, এনসিপি, সব মিলিয়ে কী দেখাচ্ছো সারাদেশের মধ্যেÑ রক্তক্ষয়ী (কার্যক্রম) শুরু হয়ে আবার। কিছু থেকে কিছু হলেই- ‘হাসিনা গেছে যেই পথে, তারেক জিয়াও যাবে সেইপথে’ বলতে থাকো। এইগুলো তো সমাধান না কোনো। এই স্লোগান দিয়ে সমাধান আসবে কখনো?”
তিনি বলেন, “যারা এই দেশকে ভালোবাসো তারা উল্লেখযোগ্য দেশের মানুষকে নিয়ে বসো। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য বসেন, কথা বলেন, সমাধান হোক। একবার না হলে দুইবার, তিনবার, চাইরবার বসেন। এইটার সমাধান মানে বাইরে মারামারি করা, রক্তক্ষয়ী করা, জান শেষ করে দেওয়া- এইটা তো রাষ্ট্র না, এইটা তো দ্বীন না, ইসলাম না।”
আব্দুল আউয়াল বলেন, “এই দেশটাকে সবাই মিলে নতুনভাবে স্বাধীন করলাম। ছত্রিশে জুলাই নাম দিলাম। জুলাই সনদের মধ্যে কিছু সংস্কার করতে হবে, তা নাহলে এইটাকে সমাধান দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই এইটাকে নিয়ে আমাদের বসা দরকার। কিছু কিছু দাবি আছে যা অনেকের মানতে কষ্ট। জুলাই সনদ তো আর ওহী হইয়া যায়নি। এইটা তো বড় বড় নেতারা যারা তারা তৈরি করছে। এইটা নিয়ে লাগলে আবার বসা হোক। তারপরও নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসতে হবে।”
“এইটা আমার অনুরোধ,” বলেন তিনি।





































