০৬ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ৫ আগস্ট ২০২৬

জেলে যেতে হলেও প্রিপেইড মিটার লাগাতে দেব না: মাহবুবুর রহমান মাসুম

জেলে যেতে হলেও প্রিপেইড মিটার লাগাতে দেব না: মাহবুবুর রহমান মাসুম

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেছেন, “আমরা জানি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে, নিপীড়ন আসতে পারে। জেলে যেতে হলেও যাব, তবু প্রিপেইড মিটার লাগাতে দেব না।”

মঙ্গলবার রাতে নগরীর পাঠানটুলী উৎসব কমিউনিটি সেন্টারে ‘প্রিপেইড মিটার চাই না, প্রতিরোধ করুন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উত্তর হাজীগঞ্জ একতা সমাজ কল্যাণ সংঘের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, গত সোমবার প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) নারায়ণগঞ্জে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলেও তিনি সেগুলোর সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রিপেইড মিটারের ভোগান্তির বিষয় তুলে ধরতে চাই। জনগণের ওপর এ ধরনের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “বিগত সরকারের আমলে ইভিএম কেনা হলেও বর্তমান সরকার তা বাতিল করেছে। তাহলে সেই সরকারের নেওয়া প্রিপেইড মিটার প্রকল্প কেন বাতিল হবে না?”

বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, জোরপূর্বক কোনো বাড়িতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের চেষ্টা করলে জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী ১১ আগস্ট গণমিছিল কর্মসূচি পালন করা হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তর হাজীগঞ্জ একতা সমাজ কল্যাণ সংঘের সভাপতি হাজী মো. রুহুল আমিন। প্রধান আলোচক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।

উত্তর হাজীগঞ্জ একতা সমাজ কল্যাণ সংঘের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার অহিদুর রহমান আরিফের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জাগু, অ্যাডভোকেট শাহজাহান মোড়ল, মোহাম্মদ আলী, সাহেদুল হাসান বাবু, জাহিদ আহাম্মেদ, সাংবাদিক শরীফ সুমনসহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির নেতারা।

সভায় কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে নানা ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, ব্যালেন্স শেষ হলে পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, রিচার্জ প্রক্রিয়া জটিল এবং প্রতি মাসের শুরুতে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাটের নামে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয়।

সভা শেষে বক্তারা প্রিপেইড মিটারের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতের আন্দোলন কর্মসূচি ঐক্যবদ্ধভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়