৯–১১ বছর বয়সী কন্যা শিশুদের ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হবে: নাসিক প্রশাসক
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) আওতাভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আগামী দুই মাসের মধ্যে ৯ থেকে ১১ বছর বয়সী কন্যা শিশুদের ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে হাজীগঞ্জ আইইটি স্কুল মাঠে সামাজিক সংগঠন অগ্নিশিখার উদ্যোগে আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, দেশে নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের প্রকোপ উদ্বেগজনক। এসব রোগ প্রতিরোধে কার্যকর একটি ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশেও সেই ভ্যাকসিন এসেছে। নাসিকের আওতাধীন ৯ থেকে ১১ বছর বয়সী কন্যা শিশুদের আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রতিটি স্কুলে গিয়ে এই টিকা দেওয়া হবে। কেউ যদি স্কুলে টিকা নিতে না পারে, তাহলে সিটি করপোরেশনে এসে বিনামূল্যে টিকা নিতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি সাধারণ ইনজেকশন। এতে ভয় বা ব্যথার কোনো বিষয় নেই। এই টিকার মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।”
নাসিক প্রশাসক বলেন, “একজন মা একটি পরিবারের এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। ক্যানসারের মতো রোগ শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবারকেও আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। তাই এ রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি জানান, প্রথম ধাপে ৯ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে। পরে পর্যায়ক্রমে ১২ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া দেশে প্রচলিত আরও কয়েকটি রোগের টিকাও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সামাজিক সংগঠন অগ্নিশিখার উপদেষ্টা তারিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে আইইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান গাজী, বিবি মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যানিকেতনের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, অগ্নিশিখার সভাপতি আসিফ রহমানসহ শিক্ষক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





































