১১ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:০৭, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৯:৩২, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

আনন্দ ও আবেগঘন পরিবেশে আই. ই. টি বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন

আনন্দ ও আবেগঘন পরিবেশে আই. ই. টি বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন

কারও মাথায় পাকাচুল, কারও চোখে চশমা—তবু চোখেমুখে একই রকম উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে ফিরে এসে পুরোনো বন্ধুদের খোঁজ, আবেগে জড়িয়ে ধরা, স্মৃতির ছবি তোলা—কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। যেন একদিনের জন্য সময় থেমে গেছে, ফিরে এসেছে ছাত্রজীবনের সেই সোনালি দিনগুলো।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিনব্যাপী শহরের আই. ই. টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষপূর্তি উদযাপনে এমন আবেগঘন দৃশ্যই দেখা যায়।

শত বছরের স্মৃতি, সম্পর্ক ও গৌরবের ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। প্রায় দুই হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ ছিল প্রাণচঞ্চল। কোথাও হাসি, কোথাও নীরব আবেগ। শিক্ষক, সহপাঠী ও অতীতের গল্পে মুখর হয়ে ওঠে শতবর্ষের এই উৎসব। বক্তৃতা, সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় পথচলার কথা।

এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

শনিবার জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পতাকা উত্তোলন ও শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে শতবর্ষ উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কর কমিশনার মর্তুজা শরিফুল ইসলাম রানা। পরে বিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস তুলে ধরে ‘জার্নি অব হান্ড্রেড ইয়ারস’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং শতবর্ষ স্মরণিকা উন্মোচন করা হয়। এরপর বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষকদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন তাঁদের স্কুলজীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা।
অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মিউজিক্যাল শো, স্মৃতিচারণা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ও সাবেক ইউএনডিপি পরিচালক ড. সেলিম জাহান এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাহিত্যিক শামীম আজাদ।

এছাড়া শতবর্ষ উদযাপন কমিটির পরিচিতি ও এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয় এবং লোগো প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় আকর্ষণীয় লেজার শো এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড সোলস ও ওয়ারফেইজের পরিবেশনায় কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। রাতের আকাশ আলোকিত করে মনোমুগ্ধকর ফায়ারওয়ার্কসের মধ্য দিয়ে শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়