০৩ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ২০:৪২, ৩ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২১:০৯, ৩ মার্চ ২০২৬

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে স্মারকলিপি

যৌন নিপীড়নের ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে স্মারকলিপি

সারাদেশে চলমান ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ‘যৌন নিপীড়ন নির্মূল কমিশন’ গঠনসহ ১৮ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এর আগে টানা ৩ দিন সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ফেডারেশন কলেজ শাখার সদস্য সচিব মুন্নি আক্তার প্রত্যাশার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। আজকের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে এই দফার কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সমাজের অধিকার রক্ষা এবং একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ সমাজ গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিটি ঘটনার পর দেখা যায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি, আইনি দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আশ্রয় এই সংকটকে আরও জটিল করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। দ্রুত চার্জশিট ও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রকে প্রতিটি নাগরিকের, বিশেষ করে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা পালন করতে হবে।”

ছাত্র ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ১৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: শক্তিশালী ও স্বাধীন ‘যৌন নিপীড়ন নির্মূল কমিশন’ গঠন। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল’ কার্যকর করা ও নিয়মিত মনিটরিং। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি। ধর্ষকের যথাযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ। মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রদান।
দেশের ৬৪ জেলায় ‘ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার’ স্থাপন। পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের জন্য বাধ্যতামূলক জেন্ডার সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণ।

লিগ্যাল এইড কার্যালয়গুলো সক্রিয় করা ও হটলাইনের প্রচারণা। ধর্ষণের শিকার প্রত্যেকের রাষ্ট্রীয় খরচে সুচিকিৎসা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক সুরক্ষা। নারীর প্রতি বিদ্যমান সকল বৈষম্যমূলক আইন ও প্রচলিত প্রথা বিলোপ। সমাজে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ। ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য। তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল ব্যক্তির অবহেলা প্রমাণিত হলে বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করেন, “নারায়ণগঞ্জের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুততম সময়ে ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল’ গঠন করা হবে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা হবে।”

মানববন্ধন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন। উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সৃজয় সাহা ও ইউশা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্ত শেখ, অর্থ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস নিসা, দপ্তর সম্পাদক শেখ সাদী, রাজনৈতিক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মুন্নি আক্তার প্রত্যাশা, কার্যকরি সদস্য সিয়াম সরকার, তোলারাম কলেজ শাখার আহ্বায়ক রাইসা ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার আহ্বায়ক মৌমিতা আক্তার এবং অন্যান্য স্তরের নেতাকর্মীরা

সর্বশেষ

জনপ্রিয়