নাসিক নির্বাচন নিয়ে আলোচনা—কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে—কে হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন-এর পরবর্তী মেয়র। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতা মেয়র পদে আগ্রহী বলে দলীয় ও নগর রাজনীতিতে আলোচনা চলছে। এ দৌড়ে এগিয়ে আছেন সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত কয়েকজন প্রার্থী। একই সঙ্গে নগরবাসীর আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ কমলেও নগর রাজনীতিতে তৎপরতা থেমে নেই। সম্ভাব্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন দল ও আগ্রহী প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিনটি অঞ্চল—সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর ও বন্দর এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। সাবেক কাউন্সিলরসহ স্থানীয় নেতারাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন চাইতে পারেন—ব্যবসায়ী নেতা ও মহানগর বিএনপির নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এবং বিএনপি নেতা ও প্রাইম গ্রুপের মালিক আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল। তারা সবাই সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে করতে পারেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি শুনা যাচ্ছে। আলোচনায় আছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদ এবং মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকেও মেয়র প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় আছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অল্প ভোটে পরাজিত খেলাফত মজলিসের নেতা এবিএম সিরাজুল মামুন।
মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহানগর সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ। আলোচনায় আছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির সংগঠক ফারহানা মানিক মুনা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে এনসিপি জয় পায়। শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশে ভোটাররা বিভিন্ন দলকে সমর্থন দিয়েছেন—যা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, এবারের মেয়র দৌড় হবে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার। যে প্রার্থীরা এলাকায় সংগঠন শক্ত করতে পারবেন, নিয়মিত জনসংযোগ রাখবেন এবং সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে দৃশ্যমান থাকবেন—তাদের মধ্যেই নির্ধারিত হবে নারায়ণগঞ্জের পরবর্তী মেয়র।





































