০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৩৮, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকায় পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে

দুই পুলিশ সদস্যের ভূমিকায় পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে

নারায়ণগঞ্জে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে একজন বরখাস্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, এক এএসআইয়ের অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর চাষাঢ়া এলাকায় মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে মেহেদী হাসান নামে বরখাস্ত এক পুলিশ সদস্যকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, চাষাঢ়া এলাকায় সিভিল পোশাকে মেহেদী হাসানকে দেখতে পেয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে মারধরও করা হয়। পরে চাষাঢ়া ট্রাফিক বক্সে নিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান জানান, মেহেদী হাসান নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন।

ভুক্তভোগী লেগুনাচালক ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে তার বাড়িতে ফোন করে তার সঙ্গে ফেনসিডিল পাওয়া গেছে বলে ভয় দেখানো হয়। পরে বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

ফারুক হোসেন বলেন, “আমার মেয়ের পরীক্ষার ফি ও ঘর ভাড়ার টাকা নিয়েছে। আমার বাসায় ফোন দিয়ে বলেছে, আমার সঙ্গে ফেনসিডিল পেয়েছে। এই মিথ্যা কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আনিয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রোববার বিকেলে একইভাবে অন্য একজনকে ভয় দেখাতে দেখে তিনি মেহেদী হাসানকে হাতেনাতে আটক করেন।

তবে মেহেদী হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এখান দিয়ে যাচ্ছিলাম। তারা তিন-চারজন মিলে আমাকে মারধর শুরু করে। তারা কারা এবং কী কারণে আমাকে মারধর করেছে, সে বিষয়ে কিছু জানি না।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরে ট্রাফিক বক্সে পুলিশের উপস্থিতিতে ফারুকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে মেহেদী হাসান স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের পর বিস্তারিত জানাতে পারব।”

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার সামনে এক পুলিশ সদস্যের অস্বাভাবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে অস্বাভাবিকভাবে গান গাইতে ও নাচতে দেখা যায়।

গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সদর নৌ থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান। ওই পুলিশ সদস্যের নাম আব্দুল মান্নান। তিনি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।

ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, “স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এএসআই মান্নান এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর আগে তিনি মাদকজাতীয় কিছু সেবন করেছিলেন কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর করা হচ্ছে।”

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে ওসি জানান, আব্দুল মান্নান থানার কোয়ার্টারে থাকতেন এবং তার স্ত্রী সিলেটে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। ঘটনার রাতে মুঠোফোনে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপরই তিনি এমন আচরণ করেন।

ভিডিওতে আশপাশের লোকজন ওই পুলিশ সদস্য মাদক সেবন করেছেন কি না জানতে চাইলে তাকে বলতে শোনা যায়, তার স্ত্রী তাকে ‘জুতা’ দিয়ে মেরেছেন। এ কারণে তিনি এমন আচরণ করছেন।

ওসি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর এএসআই আব্দুল মান্নানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

একই সময়ে একজন বরখাস্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ এবং আরেক পুলিশ সদস্যের অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের দায়িত্বশীলতা ও আচরণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনাতেই তদন্তের পর প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়