০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:২৬, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দায়িত্ব নিয়ে অ্যাকশনে নতুন এসপি হাবিবুর রহমান

দায়িত্ব নিয়ে অ্যাকশনে নতুন এসপি হাবিবুর রহমান

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নারায়ণগঞ্জে অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে নেমেছেন নতুন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান। গত ৩ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জেলাজুড়ে মাদক, সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোরদার অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ।

নবাগত এসপির দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিনের মাথায় জেলায় সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। একই সময়ে নগরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় মাদক কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে গুলিতে শুভ চন্দ্র দাস (৩০) নামে এক যুবক নিহত হন।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই নবাগত এসপির প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে নগরের টানবাজার, জিমখানা ও ঋষিপাড়া এলাকায় বিশাল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। পাশাপাশি জেলার সাতটি থানায় একযোগে পৃথক অভিযান চালিয়ে গত দুই দিনে ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ সুপার। চাষাঢ়ায় শুভ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশের এই দৃশ্যমান তৎপরতায় মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। তবে আটককৃতদের বড় একটি অংশই কেবল মাদকসেবী ও ছোট পরিসরের কারবারি হওয়ায় অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি চরম আকার ধারণ করেছে। এসব অপরাধের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদক ব্যবসার যে বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে তার মূল ডিলার ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করা না গেলে কেবল খুচরা বিক্রেতা বা মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে সচেতন নগরবাসী ও স্থানীয়রা কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মাদকের মূল উৎস, ডিলার ও পেছনে থাকা বড় কারবারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা, নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত মাদক স্পট পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া, মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে নগরে আতঙ্কের কারণ কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ এবং অবৈধ অস্ত্রের মহড়া বন্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করাও হবে কার্যকর উদ্যোগ। 

শিল্প ও বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই সাঁড়াশি অভিযানকে কেবল গণআটক বা সাময়িক তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কতটা ধারাবাহিক ও কার্যকর রাখা যায়।

সচেতন মহলের মতে, আগামী দিনগুলোতে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী এই অভিযানের প্রকৃত ফলাফলই বলে দেবে, নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নবাগত এসপির উদ্যোগ কতটা টেকসই পরিবর্তন আনতে পারছে।
 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়