নতুন কর নয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকেই রাজস্ব বাড়বে: নাসিক প্রশাসক
নতুন কোনো কর আরোপ ছাড়াই ঘোষিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আয়োজিত উন্মুক্ত আলোচনায় নাগরিকদের নানা প্রশ্ন, অভিযোগ ও পরামর্শের জবাব দিয়েছেন নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করের বোঝা চাপানো হবে না; বরং শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে যথাযথ কর আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
প্রশাসক বলেন, “আমি এখানে শোষণ করতে আসিনি। সাধারণ মানুষের কর বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। এতদিন অনেক বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রকৃত কর দিচ্ছিল না। পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে যথাযথ কর আদায় শুরু হয়েছে।”
তিনি জানান, বন্দরে আকিজ গ্রুপের পাঁচটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আগে বছরে মাত্র ৯৮ হাজার টাকা কর দিত। পুনর্মূল্যায়নের পর তাদের বার্ষিক কর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা তারা ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছে। একইভাবে ফকির গ্রুপের বকেয়া কর আদায়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্কৃতি চর্চা প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাষাঢ়ার শহীদ জিয়া হলকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পানি কর প্রত্যাহারের দাবি, কবরস্থান সম্প্রসারণ, নারীবান্ধব নগর গঠন, জন্ম ও মৃত্যুসনদ সেবা সহজীকরণ, হকার পুনর্বাসন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পথশিশু পুনর্বাসন, কুকুর নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্পের মান এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
বন্দর ও ফতুল্লাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন এবং গেজেট প্রকাশের পর প্রয়োজনে সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন করা হবে। সরকারও তখন নতুন এলাকাগুলোর উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেবে।
বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে নতুন সেতুর দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে একটি সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে সুযোগ ও অর্থায়নের ভিত্তিতে আরও সেতু নির্মাণের বিষয় বিবেচনা করা হবে।
উন্নয়নকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্প্রতি কিছু প্রকল্পে নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি নজরে এসেছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের নিম্নমানের ‘সেভেন হর্স’ সিমেন্ট ব্যবহার না করে মানসম্মত ব্র্যান্ডের সিমেন্ট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পথশিশু পুনর্বাসনের প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদের পুনর্বাসন করা গেলে কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণতা কমানো সম্ভব। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
কুকুর নিয়ন্ত্রণের বাজেট বাড়ানোর দাবির জবাবে প্রশাসক বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে ভ্যাকসিন সেবা পুনরায় চালুর জন্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
উন্মুক্ত আলোচনায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সরকার হুমায়ূন কবির, সাংস্কৃতিক সংগঠক ধীমান সাহা জুয়েল, 'আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী'র সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, মহিলা পরিষদের সভাপতি রিনা আহমেদ, জামায়াত নেতা মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অহিদুল হক খান, সাবেক কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন এবং বাজেট নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।





































