৩০ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:২৭, ২৯ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২১:০৩, ২৯ জুলাই ২০২৬

আইডি কার্ড ও জ্যাকেটের নামে অটোচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

আইডি কার্ড ও জ্যাকেটের নামে অটোচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা চালকদের সদস্য কার্ড ও কমলা রঙের হাতাকাটা জ্যাকেট নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অর্থ দিয়ে কার্ড ও কটি না নিলে ১ আগস্ট থেকে সিরাজউদ্দৌলা সড়কে অটোরিকশা চলতে দেওয়া হবে না বলে চালকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

গত প্রায় এক মাস ধরে শহরের ১ ও ২ নম্বর রেলগেট, চাষাঢ়া, মিশনপাড়া, খানপুর ও কালিরবাজার এলাকায় সংগঠনটির কয়েকজন কর্মীকে অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের পরনে ছিল মেরুন রঙের হাতাকাটা জ্যাকেট, যেখানে লেখা ছিল ‘সদর উপজেলা অটোরিকশা, অটোটেম্পো, মিশুক ও বেবী ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়ন’।

চালকদের অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও দুই কপি ছবি জমা দিয়ে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার বিনিময়ে সদস্য কার্ড ও কটি নিতে বলা হচ্ছে। কার্ড না নিলে শহরের বিভিন্ন সড়কে গাড়ি চালাতে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

তবে সংগঠনটির নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংগঠনের সভাপতি মো. আরিফ খান বলেন, শহরের বাইরে থেকে আসা অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও সদস্যদের পরিচয়ের জন্য কার্ড ও কটি দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে সদস্য না হলে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির শ্রম অধিদপ্তরের নিবন্ধন রয়েছে। তবে সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ বা যান চলাচল বন্ধ করার বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক অনুমতি নেই বলেও জানান তিনি।

সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, সদস্য কার্ড বা পোশাকের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ বা অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেওয়ার দায়িত্ব সংগঠনের নয়। কেউ এমন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহেল রানা বলেন, সংগঠনটিকে সড়কে দায়িত্ব পালনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণের নামে চালকদের হয়রানির বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (তদন্ত ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, সদস্য কার্ড ও পোশাকের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অটোরিকশা চালকরা প্রশাসনের কাছে হয়রানি বন্ধ এবং শহরের সড়কে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়