সড়ক রক্ষায় প্রতিবাদ করায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর গ্রামের সরকারি সড়ক রক্ষায় প্রতিবাদ করায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে। এ সড়ক দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং স্থানীয়দের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন এলাকাবাসী। অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় প্রায় ৭০০ মানুষের গণস্বাক্ষরও সংযুক্ত করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ‘জৈনপুর থেকে পিরোজপুর ইউপি অফিস রোড’ একটি গ্রাম্য শ্রেণির সড়ক ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজি, ছোট পিকআপ ও ব্যক্তিগত গাড়ির মতো হালকা যান চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে এটি নির্মাণ করা হয়নি।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ওই সড়ক দিয়ে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের একটি প্রকল্পের কাজে মাটি কাটার ভেকু, পেলোডার, ডাম্প ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী যান চলাচল করছে। ১০, ১৮ ও ২২ চাকার লরিও সড়কটি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক দেবে যাওয়ার অবস্থাও তৈরি হয়েছে।
সড়ক রক্ষায় ভারী যান চলাচলে বাধা দেওয়ার পর স্থানীয়দের বিরুদ্ধে মামলা ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন গ্রামবাসী।
তাদের দাবি, কোম্পানির লোকজন স্থানীয়দের চাঁদাবাজি, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জৈনপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. নূরউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকার পার্শ্ববর্তীতে মেঘনা গ্রুপ একটি প্রকল্প করছে। এই রাস্তা দিয়ে কোম্পানির বড় বড় গাড়ি, ১০ চাকা, ১৮ চাকা এমনকি ২২ চাকার লরিও চলাচল করছে।’
তিনি বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কয়েক মাস ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে আবার বড় গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া হলে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে লোকজন এসে গ্রামের সাধারণ মানুষ ও তরুণদের ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নূরউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমাদের ছেলেদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। কোম্পানির নিজস্ব রাস্তা করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কোম্পানি ব্যক্তিগতভাবে রাস্তা করে নিক। কিন্তু জনগণের রাস্তা দিয়ে চলাচল করে যেন আমাদের দুর্ভোগে না ফেলে।’
তফিরুন নেছা নামে আরেক নারী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় একটি সাধারণ রাস্তা। যেটি দিয়ে মানুষ হাঁটাই যথেষ্ট। এই রাস্তা দিয়ে বড় বড় কোম্পানির গাড়ি নেয়। বাধা দেওয়ায় এলাকার ছেলেদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।’
তার দাবি, প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে বিষয়টি জানানোর পরও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়নি। আগে রাতে এসব যানবাহন চলাচল করলেও এখন দিনের বেলাতেও চলাচল করছে। এতে দীর্ঘদিন পর নির্মাণ করা সড়কটি আবারও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় দুর্ভোগের পাশাপাশি বায়ু ও শব্দদূষণ বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারি অবকাঠামোও।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে সড়কটি রক্ষায় সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
গ্রামবাসীর দাবি, সরকারি সড়কটি কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হয়রানিমূলক মামলা না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা।





































