ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরমে
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। গত কয়েকদিন ধরে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে দফায় দফায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা।
রোববার (২৩ আগস্ট) চাষাঢ়া, দেওভোগ, উকিলপাড়া, আমলাপাড়া, কালিরবাজার, কাশীপুর ও ডিআইটিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে একাধিকবার লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা, আবার কোথাও দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা সৈকত হোসেন বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। দিনের পাশাপাশি রাতেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
হুটহাট বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা। শহরের চটের বস্তা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কামরুল জামান বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। অতিরিক্ত তাপে তাদের কর্মক্ষমতা কমে গেছে। মেশিনারিজ বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। দিনে দুই থেকে তিনবার বিদ্যুৎ যায় এবং প্রতিবার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না।
১ নম্বর বাবুপাইল এলাকার মুদি দোকানি মোহাম্মদ আরমান বলেন, সকালে দোকান খোলার পরপরই একবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর দুপুর, বিকেল ও রাতেও দফায় দফায় লোডশেডিং হয়েছে। বর্তমানে শিশুদের স্কুল পরীক্ষা চলছে। লোডশেডিংয়ের কারণে তারা রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিপিডিসির এক প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগে ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিং না হলেও বর্তমানে এসব এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জে হঠাৎ লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাতে পারেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। দ্রুত লোডশেডিং পরিস্থিতির সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।





































