বিবি মরিয়ম স্কুলকে জাতীয় পর্যায়ের রোল মডেল করতে চাই: সজল
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও বিবি মরিয়ম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক সদস্য মনিরুল ইসলাম সজল বলেছেন, ‘বিবি মরিয়ম স্কুল অ্যান্ড কলেজকে জাতীয় পর্যায়ে একটি রোল মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য প্রয়োজন একটি আধুনিক ১০ তলা ভবন। ভবনটি নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে ডিগ্রি ও মাস্টার্স পর্যায়ে উন্নীত করার সুযোগ তৈরি হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।’
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুলে অবস্থিত বিবি মরিয়ম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও মেধা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন সময়ে যাঁরা দায়িত্বশীল পদে ছিলেন এবং অভিভাবকদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁরা প্রত্যাশিতভাবে শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে পারেননি। একসময় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ভালো নয় এমন ধারণার কারণে অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের এখানে ভর্তি করাতে আগ্রহী হতেন না। তবে বর্তমানে শিক্ষার মান ও ফলাফলের উন্নতি হচ্ছে। অভিভাবকেরাও সন্তানদের এখানে ভর্তি করাচ্ছেন।
অতীতের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম ছিল। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে এবং শিক্ষকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া ছিল।
সজল বলেন, ‘এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার কৃতী সন্তান মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিবছর প্রায় ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি স্কুল থেকে কলেজে রূপান্তরিত হয়। তাঁর পর আমরা এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা কখনো প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিগতভাবে কিছু নেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে আসিনি। বরং এর উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’
প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে কলেজটিকে ডিগ্রি ও মাস্টার্স পর্যায়ে উন্নীত করার পথ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, সারা দেশে সুনাম অর্জন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ত্যাগ, শ্রম ও পরিশ্রম দিয়ে প্রধান অতিথির নেতৃত্বে বিবি মরিয়ম স্কুল অ্যান্ড কলেজকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিক্ষার মান ভালো হবে, শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে ভর্তি হবে এবং এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।’
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সজল বলেন, সবাইকে প্রতিষ্ঠানটিকে ভালোবাসতে হবে এবং এর উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করলে, শিক্ষকেরা নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করলে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, খেলাধুলায়ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্রীড়াক্ষেত্রে ভালো ফলাফলের মাধ্যমে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলা উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে।
বিবি মরিয়ম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খুরশিদ আহমেদ তুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। প্রধান আলোচক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. খালিদুজ্জামান ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন রিপন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম আপনসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।





































