২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১২:৫৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি-প্রশাসনের কড়া সমালোচনায় এমপি আল আমিন

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি-প্রশাসনের কড়া সমালোচনায় এমপি আল আমিন

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি ও প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। বিএনপির আশ্রয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এর ফলাফল ভালো হবে না।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

একটি পোস্টে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের তুলনা করেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি দাবি করেন, ওই সময় আওয়ামী লীগের লোকজনের লুটপাট, জবরদখল, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণেই শেখ মুজিবুর রহমান নিজের পতন ডেকে এনেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আব্দুল্লাহ আল আমিন লেখেন, “আইনশৃঙ্খলার এরকম সিচুয়েশন হয়েছিল মুজিবের আমলে। লীগের গুন্ডারা খাই খাই আর লুটপাট করে দেশে দুর্ভিক্ষ নামায়া আনছিল। ঢাকা শহরেও ব্যাংক লুটপাট, জবরদখল, গুন্ডামি আর হুটহাট অপহরণ শুরু করেছিল তারা।”

তিনি আরও লেখেন, “এতসব না দেখার ভান করে আর প্রশ্রয় দিয়ে নিজের পতন নিজেই ডেকে এনেছেন মুজিব। যিনি একাত্তর পর্যন্ত ছিলেন হিরো। ৭২-৭৫ এ হয়ে গেলেন ভিলেন, একদলীয় বাকশালের পিতা।”

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির আশ্রয়ে থাকা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা এখন দেশজুড়ে সক্রিয়। বড় পর্যায়ের চাঁদাবাজ থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে অটোরিকশা থেকে ১০ টাকা চাঁদা আদায়কারীরাও বিএনপির আশ্রয় পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি লেখেন, “সেইম কাজ শুরু করেছে বিএনপির শেল্টারে থাকা গুন্ডা, চাঁদাবাজেরা। টপ টু বটম সারাদেশে একই অবস্থা। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গুন্ডা, চাঁদাবাজ থেকে শুরু করে গ্রামের অটো থেকে ১০ টাকা চাঁদা নেয়া গুন্ডাকেও শেল্টার দিচ্ছে বিএনপি।”

সরকারের সাত মাসের কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা কমেছে দাবি করে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “সাত মাসে জনগণের আস্থা হারালেও দেশের ১০০% চাঁদাবাজ এখন আস্থা রাখে তারেক রহমানের সরকারের ওপর।”

হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সন্ত্রাস ও লুটপাট থেকে রেহাই পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার একটি থানার ওসির বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আওয়ামী লীগকে মিছিল করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে পোস্টে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেননি।

বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধেও অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ করেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি লেখেন, “বিএনপির নেতারা লীগ থেকে শুরু করে ডাকাত, ছিনতাইকারীকেও প্রটেকশন দেয় টাকার লোভে! লজ্জাও লাগে না।”

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা খুনি, ডাকাত ও চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তর কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানাতে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাচ্ছেন না।

তিনি লেখেন, “জনগণ সরকারি দফতর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়ে দেখে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদেরই পদলেহন করছে প্রশাসন আর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বিএনপি নিজেরাই নিজেদের পতনের পরিস্থিতি তৈরি করবে। নাগরিক অধিকার রক্ষার চেয়ে চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেওয়া দলটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “তারেক রহমান সাহেব এবং বিএনপি নিজেরাই নিজের পতন ডেকে আনছে। নাগরিক অধিকার রক্ষার চেয়ে ১০ টাকার চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিএনপির কাছে। জুলুম, লুটপাট করে যাচ্ছে সব জায়গায়।”

আরেকটি ফেসবুক পোস্টে বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি জানান, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলেও নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করুক এটাই তিনি চান।

তিনি লেখেন, “আমি সেদিন বক্তব্যে বলেছিলাম, আমি সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলেও চাই এ সরকার ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করুক। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত একটা সরকার মেয়াদ পূর্ণ না করতে পারলে খারাপ নজির সৃষ্টি হবে এবং দেশের গণতন্ত্র ও পজিটিভ যাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে।”

তবে সরকারের সাত মাসের কর্মকাণ্ড দেখে সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “কিন্তু সাত মাসের বিএনপির কর্মকাণ্ডে মনে হয়, তারা নিজেই চায় না ঠিকঠাক দেশ চালাতে। যে কয়দিন লুটপাট করে চালানো যায় তাতেই তারা খুশি।”

এরপর আবারও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে মিছিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বিএনপির লোকজন সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আব্দুল্লাহ আল আমিন লেখেন, “যে প্রধানমন্ত্রী নিজ আসনে আওয়ামী সন্ত্রাসী আর বিএনপির চাঁদাবাজদের ঠেকাতে পারেন না, সেই প্রধানমন্ত্রী পুরো দেশের মানুষকে সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা করবেন কীভাবে?”

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এর পরিণতি ভালো হবে না বলেও নিজের পোস্টে সতর্ক করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়