২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:০৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একতরফা বাসভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি তারিকুল সুজনের

একতরফা বাসভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি তারিকুল সুজনের

সরকারি প্রজ্ঞাপন ছাড়াই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে একতরফাভাবে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে সুজন দাবি করেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের প্রকৃত দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার হলেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দূরত্ব দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে যে সিন্ডিকেট পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করত, তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছে। শুধু ব্যক্তিবদল হয়েছে, ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

আগের ভাড়া নির্ধারণের প্রসঙ্গ টেনে সুজন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছিলেন। পরে বাস মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ টাকা বাড়ানো হলেও যাত্রীদের অসন্তোষের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ২৩ এপ্রিল সরকার কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ১১ পয়সা বাড়ালেও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস মালিকরা ৫৫ টাকা ভাড়া আদায় শুরু করেন। তাঁর দাবি, ওই ভাড়া সরকার নির্ধারিত হিসাবের চেয়েও ৩ টাকা বেশি ছিল।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন নারায়ণগঞ্জসহ ছয় জেলার অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সুজন বলেন, “গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার তেলের দাম বাড়ায়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর কিলোমিটারপ্রতি বাসভাড়া ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই রুটে ভাড়া সর্বোচ্চ ৩ টাকা বাড়তে পারে। যেহেতু ২৩ এপ্রিল থেকেই বাস মালিকরা ৩ টাকা অতিরিক্ত আদায় করে আসছিলেন, তাই নতুন করে ১ টাকাও ভাড়া বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। অথচ উৎসব ও বন্ধন বাসে ৫ টাকা এবং এসি বাসে ১০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।”

জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা। তিনি বলেন, “জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভাপতি হিসেবে জেলা প্রশাসক এই অন্যায্য ভাড়া আদায়ের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।”

বাস মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার দাবি জানিয়ে তারিকুল ইসলাম সুজন বলেন, “নারায়ণগঞ্জবাসী সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক পয়সাও বেশি ভাড়া দেবে না।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়