প্রজ্ঞাপনের আগেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া বাড়াল বন্ধন-উৎসব
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সরকারি প্রজ্ঞাপন বা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশের আগেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া বাড়িয়েছে বন্ধন ও উৎসব পরিবহন। নন-এসি বাসে ৫ টাকা এবং ঢাকা নগর পরিবহনের এসি বাসে ১০ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে নতুন ভাড়া আদায় শুরু হয়। এ নিয়ে কয়েকটি কাউন্টারে পরিবহনকর্মী ও যাত্রীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্ধন ও উৎসব পরিবহনের নন-এসি বাসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ভাড়া ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা নগর পরিবহনের এসি বাসে ৭০ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৮০ টাকা। তবে বিআরটিসির এসি বাসে মঙ্গলবার পর্যন্ত আগের ৭০ টাকা ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।
নিয়মিত যাতায়াতকারী বেসরকারি চাকরিজীবী রিফাত আহমেদ বলেন, “তেলের দাম একটু বাড়লেই পরিবহনওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু আমাদের বেতন তো আর বাড়ে না।”
তানজিলা আক্তার নামে আরেক চাকরিজীবী বলেন, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ভাড়া বাড়ানো ঠিক হয়নি। এতে প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে গেছে, যা নিয়মিত যাত্রীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
এদিকে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি জানিয়েছেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে হঠাৎ বাসভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। এ বিষয়ে সংগঠনটির অবস্থান তুলে ধরে খুব শিগগিরই গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হবে।
বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্ধন পরিবহনের পরিচালক সাখাওয়াত ইসলাম রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ রওশন আলী সরকার জানান, ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
তিনি বলেন, “আগে যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এবার বন্ধন ও উৎসব পরিবহন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তখন আমি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলাম, সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া ছাড়া ভাড়া বাড়ানো যাবে না।”
ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে উল্লেখ করে রওশন আলী সরকার বলেন, “পরিবহন মালিকদেরও দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। লোকসান সামলাতে তারা হয়তো এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে আমাদের উচিত ছিল অন্তত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।”
অন্যদিকে গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন বাসভাড়া বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, “সরকার তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে দিল, আর রাতারাতি উৎসব-বন্ধনের বাসভাড়া ৫ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ১০ টাকা বেড়ে গেল।”
জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সুজন বলেন, “জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভাপতি হলেন জেলা প্রশাসক। বাস মালিকরা যদি তাদের মর্জিমতো বাসভাড়া নির্ধারণ করে, তবে জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভাপতির কাজটা কী?”
তিনি অবিলম্বে বর্ধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক বাসভাড়া নির্ধারণের দাবি জানান।




































