২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৭:৩৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন ছাত্রের মৃত্যুর পর সোনারগাঁয়ে স্কুল পালানো ঠেকাতে দিনে দুইবার হাজিরার নির্দেশ

তিন ছাত্রের মৃত্যুর পর সোনারগাঁয়ে স্কুল পালানো ঠেকাতে দিনে দুইবার হাজিরার নির্দেশ
এআই ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্কুলে না গিয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে তিন স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার দুই দিনের মাথায় শিক্ষার্থীদের স্কুল পালানোর প্রবণতা ঠেকাতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। এখন থেকে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দুইবার হাজিরা নিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাঈদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উপজেলার সব স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে তারা স্কুলে না গিয়ে পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর বালুরমাঠ এলাকায় মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায়। দুপুর পৌনে ১টা থেকে ১টার দিকে নদীতে নামার পর তাদের মধ্যে তিনজন পানিতে তলিয়ে যায়।

নিহতরা হলো মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকার মোহাম্মদ ফারুকের যমজ ছেলে আসেকিন (১৫) ও আরেফিন (১৫) এবং একই এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে আবির (১৪)। যমজ দুই ভাই নবম শ্রেণিতে এবং আবির অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। তাদের সঙ্গে থাকা আরেক শিক্ষার্থী পানি থেকে উঠে আসতে সক্ষম হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ঢাকা থেকে ডুবুরি দল এসে অভিযানে যোগ দেয়। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে যমজ দুই ভাই আসেকিন ও আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

এ ঘটনার দুই দিন পর জারি করা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্কুল পালানোর প্রবণতা দূর করতে প্রতিটি শিখন দিবসে দুই দফায় হাজিরা নিতে হবে। প্রথমবার প্রতিষ্ঠানের প্রথম ঘণ্টার শুরুতে এবং দ্বিতীয়বার টিফিনের পরের ঘণ্টার শুরুতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি যাচাই করতে হবে।

কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট শ্রেণিশিক্ষকের মাধ্যমে তার অনুপস্থিতির কারণ নির্ণয় করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনাটিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে উপজেলার সব অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সুপারকে তা বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।

চিঠির অনুলিপি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়