২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:০৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ২১:১০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমির আতঙ্কে দিন পার করছেন বন্দরের তিনগাঁওবাসী, উদ্ধারে চলছে তৎপরতা

কুমির আতঙ্কে দিন পার করছেন বন্দরের তিনগাঁওবাসী, উদ্ধারে চলছে তৎপরতা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে একটি মিঠাপানির কুমিরের উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে এলাকার একটি পুকুরে কুমিরটি দেখা যাওয়ার পর সন্ধ্যার পর অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। শিশুদেরও একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না অভিভাবকরা। এদিকে কুমিরটি উদ্ধারে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা চলছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তিনগাঁও এলাকার একটি পুকুরে কুমিরটি ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি রাতে পুকুর থেকে উঠে একটি বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় কয়েকজন বাসিন্দা কুমিরটি দেখতে পান। পরে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী কাউসার বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই কুমিরটি এই পুকুরে ঘোরাফেরা করছে। সেদিন রাতে পুকুর থেকে উঠে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় আমরা দেখতে পাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, ‘এলাকায় কুমির ঢুকেছে শোনার পর থেকেই ভয় লাগছে। সন্তানদের নিয়ে খুবই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’

১২ বছর বয়সী ফাহিম বলে, ‘কুমির দেখার পর বাবা-মা আমাকে ঘর থেকে বের হতে দেয় না। আমরা ভয়েই আছি। কখন কী হয়, সেই চিন্তা হচ্ছে।’

আরেক বাসিন্দা সালাম মিয়া বলেন, ‘কেউ বলছে গুইসাপ, কেউ বলছে কুমির। আমি নিজে দেখিনি। তবে মানুষের মুখে শুনছি। কোথা থেকে এসেছে, সেটাও কেউ বলতে পারছে না।’

কুমিরটির উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। পুকুরে না নামা, অপ্রয়োজনে পুকুরপাড়ে না যাওয়া, কুমিরটির কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ না করা এবং নিজে থেকে সেটিকে ধরা বা তাড়ানোর চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুকেও পুকুরের আশপাশ থেকে দূরে রাখতে বলা হয়েছে।

বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা কুমিরটির ভিডিও দেখেছি। এটি মহাবিপন্ন ও শান্ত স্বভাবের মিঠাপানির কুমির। সাধারণত এটি কাউকে ক্ষতি করবে না। কুমিরটি উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। প্রতি এক ঘণ্টা পরপর সেখানে লোক পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও জানানো হয়েছে। তারা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করবে।’

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দিয়েছি। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে। আশা করি, শিগগিরই প্রাণীটিকে উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।’

এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল দিনভর কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। পরে কুমিরটি আগের পুকুর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্য একটি স্থানে চলে গেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক প্রাণীটিকে ‘মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির’ হিসেবে উল্লেখ করে এটিকে হত্যা বা আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

কুমিরটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত বন বিভাগ অথবা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়