৩০ জুন ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ৩০ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৭:৩৮, ৩০ জুন ২০২৬

সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস পুনরায় চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ৭ দফা দাবি

সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস পুনরায় চালুর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ৭ দফা দাবি

বন্ধ ঘোষিত সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড অবিলম্বে পুনরায় চালু, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও আইনানুগ পাওনা পরিশোধসহ ৭ দফা দাবিতে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শত শত শ্রমিক।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে শ্রমিকরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মিলিত হন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সেঞ্চুরি অ্যাপারেলস লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শরীফ, সহ-সভাপতি হাসনাত কবির, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি রুহুল আমিন সোহাগ, গাবতলী পুলিশ লাইন শিল্পাঞ্চল শাখার সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন ও ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক রোহান।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন মালিকপক্ষ শ্রমিক ইউনিয়ন বা শ্রমিকদের পূর্বে কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়ে রাতের আঁধারে একতরফাভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। পরদিন সকালে কাজে এসে শ্রমিকরা কারখানার গেটে বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ শ্রম আইন ও প্রচলিত বিধিবিধানের পরিপন্থী এবং শ্রমিকদের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলেও কোনো আলোচনা ছাড়াই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে শত শত শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বেকারত্বের এই সময়ে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তারা আরও বলেন, সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর কথা বললেও মালিকপক্ষের এমন একতরফা সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার ওপর নির্মম আঘাত। পাশাপাশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের নিন্দা জানিয়ে এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।

সমাবেশ থেকে শ্রমিকরা ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে কারখানা পুনরায় চালু, সব বকেয়া মজুরি পরিশোধ, উৎপাদন শুরু হলে বর্তমান শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহাল, শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ, নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক ও চাকরির প্রত্যয়নপত্র প্রদান, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধ এবং কোনো শ্রমিককে ব্ল্যাকলিস্ট না করা।

সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে বৃহত্তর শ্রমিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর দায় মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়