৪ দিন ধরে ছাত্র ফেডারেশনের জেলা সভাপতি নিখোঁজ, ‘গুমের’ শঙ্কা
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান গত চার দিন ধরে নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা। সোমবার (২২ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান তারা।
ছাত্র সংগঠনটির নেতারা বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে সাইদুরের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না তার পরিবারের সদস্যরা। তাকে ‘গুম’ করা হয়েছে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ইউশা ইসলাম ও তাইরান আবাবিল রোজা, সহসাধারণ সম্পাদক মৌমিতা আক্তার ও অপূর্ব রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধা, অর্থ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস নিসা, দপ্তর সম্পাদক শেখ সাদীসহ অন্য নেতারা।
সাইদুরের নিখোঁজের ঘটনায় গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন গতরাতে সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান তারা। তবে ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা আশঙ্কা করছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারিতে থাকা এই ছাত্রনেতা নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে গুম হতে পারেন।
তথ্য ও প্রযুক্তির সহযোগিতায় আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারেরও দাবি জানিয়েছেন সহকর্মী ছাত্রনেতারা।
সৌরভ সেন বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত রাজনৈকি সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে ছিলেন সাইদুর রহমান। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবার কিংবা সংগঠনের কেউ যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি। দু’দিন সম্ভাব্য স্থানে এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরে থানায় জিডি করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে সৌরভ বলেন, “আমরা সদর মডেল থানার ওসির সাথে কথা বলেছি। তিনিও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি শহরের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল মিটিং ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই হয়তো সাইদুর রহমানকে গুম করা হয়ে থাকতে পারে। আমাদের প্রধান শঙ্কা এখন এটাই যে, তিনি হয়তো গুম বা খুনের শিকার হয়েছেন।”
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি জানার পর গতরাতেই আমরা জিডি গ্রহণ করেছি। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে বেশ কিছু সংগঠনের ছেলেরা একসাথে আড্ডা দিচ্ছিলো। আড্ডা শেষ করে যে যার মতো চলে যাওয়ার পর থেকেই তার খোঁজ মিলছে না বলে জানা গেছে।”
“আমাদের অফিসার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। নিখোঁজ ছাত্রনেতার বন্ধুদের সাথে নিয়ে পুলিশ ওই আড্ডার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা ওই এলাকার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”





































