পুলিশের খাতায় পলাতক হত্যা মামলার আসামিকে দেখা গেল এসপি অফিসে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হত্যা মামলায় পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. ডালিমকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দেখা গেছে। শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দেখা যায় তাকে।
৫০ বছর বয়সী ডালিম কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার প্রয়াত কুদরত আলীর ছেলে।
পুলিশের সূত্র বলছে, ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর খুন হন একই এলাকার ৩০ বছর বয়সী লিটন। দুইদিন পর নিহতের বড়বোন রাশিদা বেগম সোনারগাঁ থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বজলুর রহমান ওরফে ডন বজলু। মামলার দুই নম্বর আসামির তালিকায় ছিল ডালিমের নাম।
মামলাটি এখন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় ডালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে বলেও পুলিশের সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, পরোয়ানাভুক্ত এই আসামিকে শনিবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দেখা যাওয়া চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে আটক হন জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। এ যুবদল নেতা নারায়গঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে। তাকে ঢাকা থেকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হলে সেখানে দেখা যায় হত্যা মামলার ফেরার আসামি মো. ডালিমকে।
সজীবকে যখন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের দিকে নেওয়া হয় তখনও তিনি এসপির কার্যালয়ে ছিলেন। ওই সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরায় বন্দি হন ডালিম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডালিম সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মান্নানের ছেলে সজীবের আটকের খবর পেয়েই তিনি এসপির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সজীবকে গাড়িতে তোলার পরই তিনি এসপি কার্যালয় ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির এসপি কার্যালয়ে উপস্থিতির বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। তবে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। কারও বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকলে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”




































