সরকারি দপ্তরের হয়রানি নিয়ে ক্ষুব্ধ নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতারা
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানি, ঘুষ ও সমন্বয়হীনতায় ক্ষুব্ধ নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে লাইসেন্স গ্রহণ, বন্ড অডিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ বিভিন্ন কাজে পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের। টাকা না দিলে আটকে রাখা হচ্ছে ফাইল, তৈরি করা হচ্ছে নানা জটিলতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষের অঙ্ক দাঁড়াচ্ছে লাখ লাখ টাকায়। এসব বিষয়ে অভিযোগ করলে হয়রানি উল্টো আরও বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারি দপ্তরগুলোর এমন আচরণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তারা এমন বক্তব্য দিয়েছেন।
বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুষ দিতে দিতে ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “অনেকেই অনেক বড় বড় কথা বলেন। আপনাদের টাকা না দিলে শ্রমিকদের বেতন ৩০ হাজার নয়, ৪০ হাজার টাকা দিতে পারবো। আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন; শ্রমিকের কত টাকা বেতন দিতে হয় আমরা দিবো। আমরা অমুকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী; অমুকের জন্মদিন; কাস্টমসের অমুক টাকা; এনবিআরের অমুক টাকা; যেখানেই কাগজ লাগে সেখানেই টাকা দিতে হয়। এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যে কারণে আমরা দিতে পারি না। আমাদের কোথায় টাকা দিতে না হয়। বছরে কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। এই টাকা আমার শ্রমিকদের দিতে পারতাম।”
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাম্প্রতিক একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগ করেন, লাইসেন্স ও বন্ড অডিটের কাজে ব্যবসায়ীদের টাকা দিতে হয়। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে ফাইলে এমন জটিলতা তৈরি করা হয় যে ব্যবসায়ীরা সমঝোতায় বসতে বাধ্য হন।
এক ব্যবসায়ীর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাকে একজন ব্যবসায়ী সম্প্রতি বললেন, তার বন্ড অডিট করতে গিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে।”
নতুন গার্মেন্টসের জন্য বস্ত্র অধিদপ্তর এক লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম। গত মাসে একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “নতুন একটা গার্মেন্টস করবেন, বস্ত্র অধিদপ্তর এক লক্ষ টাকা ঘুষ চাইবে। আমার কাছে চাইছে। গত দুই সপ্তাহ আগে চাইছে, দেইনি। দেখি না দিয়ে কাজ হয় কি না।”
এর আগে ২০২৪ সালে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক আলোচনা অনুষ্ঠানেও ঘুষের অভিযোগ তুলেছিলেন ফজলে এহসান শামীম। সেখানে তিনি বলেন, “বছরে আমাদের ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়, যার কোনো প্রমাণ থাকে না। এ কারণে এর উপর ট্যাক্স এবং ফাইন করতে চায় ট্যাক্স কর্মকর্তারা। সেই ট্যাক্স ও ফাইন কম করার জন্যও আবার ঘুষ দিতে হয়।”





































