০৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৩৭, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক

শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক

শ্রমিক অসন্তোষ ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জে পোশাক কারখানার মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রায় এক ঘণ্টা এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনা, শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের যোগাযোগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে আলোচনা হয়।

বৈঠকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক পরিবেশ রক্ষায় সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনার পাশাপাশি আন্দোলনের নামে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানালেও সেটি বাস্তবায়ন হবে।

শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে গঠিত কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে কারখানায় শ্রমিকদের বিস্তারিত জানানোর জন্য মালিকদের পরামর্শ দেন সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতা এবং সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।

বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, সংকটের শুরুতে কিছু কারখানায় অস্থিরতা দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মালিকপক্ষের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অধিকাংশ কারখানায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ বজায় ছিল।

জেলা প্রশাসক বলেন, কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক বিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংকটের সময় প্রশাসন সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বিভিন্ন কারখানায় মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে ফেরাতে ভূমিকা রেখেছেন।

শিল্পকারখানার সঙ্গে শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকলেই শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও মালিকদের ব্যবসা টিকে থাকবে। তাই শিল্পের পরিবেশ রক্ষায় উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। একইসঙ্গে প্রশাসনের মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এসময় জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, এনডিএ চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, বিজিবির অধিনায়ক মির্জা আরাফাত, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বিকেএমই-এর সহসভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, ব্যবসায়ী অমল পোদ্দার, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মন্টু মিয়া, জেলার নির্বাহী সমন্বয়কারী ও গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান অঞ্জন দাস।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়