পুনর্বাসনের জন্য ১০০০ হকারের তালিকা, যাচাই’র পর চূড়ান্ত
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদের পর এবার তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। ইতোমধ্যে হকারদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত হকারদের নির্দিষ্ট স্থানে বসার সুযোগ দেওয়া হবে।
নাসিক সূত্রে জানা গেছে, চাষাড়া, কালীরবাজার, ডিআইটি ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যবসা করা হকারদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এ জন্য সিটি করপোরেশনের সাতটি টিম বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে হকারদের তথ্য সংগ্রহ করে।
এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার হকারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য রাখা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত হকারদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, পুনর্বাসনের প্রাথমিক পরিকল্পনায় চাষাড়া থেকে ২ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় হকারদের বসার জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কে কোথায় এবং কীভাবে বসবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার পাবেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার অর্থ্যাৎ শহর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দা হকাররা। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যান্য এলাকার হকারদের বিবেচনা করা হবে। তালিকা থেকে বাদ পড়া হকারদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে নাসিক।
পুনর্বাসনের পর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে হকার বসার সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
তিনি বলেন, “হকারদের মধ্যে যারা সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা, তাদের প্রথমে পুনর্বাসন করা হবে। এরপর জেলার বাসিন্দাদের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হবে। বাকিদের জন্য চাষাড়া হকার্স মার্কেটে বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে বসার ব্যবস্থা করা হবে।”
পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ কাজ এখনো চলছে। তবে কয়েক দিন আগে আমরা হকারদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছি। যারা প্রকৃত হকার, তাদের কাউকে বাদ দেওয়া হবে না—সবাইকে সুযোগ দেওয়া হবে।”
নাসিক প্রশাসক আরও বলেন, “কিন্তু সারাদেশের মানুষ যদি নারায়ণগঞ্জের সড়কে দোকান বসাতে চান, সেটি আমরা কোনোভাবেই হতে দিতে পারি না। কেউ জোর করে বসার চেষ্টা করলে তাকেও সে সুযোগ দেওয়া হবে না।”
নগরের ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখল করে হকার বসার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ ছিল। উচ্ছেদের পর এবার তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ায় একদিকে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি অন্যদিকে প্রকৃত হকারদের জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সিটি করপোরেশন।
ইতোমধ্যে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের জমিকে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করেছে সিটি কর্পোরেশন। তবে, এই জমিতে ডাবল রেললাইনের কাজ চলমান থাকায় আপত্তি রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। ফলে, পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় জটিলতা এখনো রয়ে গেছে।
এর আগে পুনর্বাসনের জন্য তৎকালীন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নগরীর চাষাঢ়ায় হকার্স মার্কেট করে দিয়েছিলেন। সেখানে পাঁচ শতাধিক হকারকে পুনর্বাসন করা হলেও অনেকেই ওইসব বরাদ্দের দোকান অন্য ব্যক্তিদের বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে, হকার সমস্যার সমাধান কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে হয়নি।
হকার সমস্যার সমাধানে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এই উদ্যোগও কতটা সফলতার মুখ দেখে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে, সিটি প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন শহরের মূল সড়ক হকারমুক্ত রাখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে রয়েছেন।





































