০৩ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ৩ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২০:৫৯, ৩ জুলাই ২০২৬

নিতাইগঞ্জ-মন্ডলপাড়া: ট্রাকের দখলে সড়ক, যানজটে ভোগান্তি-দুর্ঘটনার ঝুঁকি

নিতাইগঞ্জ-মন্ডলপাড়া: ট্রাকের দখলে সড়ক, যানজটে ভোগান্তি-দুর্ঘটনার ঝুঁকি

নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়কের নিতাইগঞ্জ থেকে মণ্ডলপাড়া পর্যন্ত অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। সড়কের দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দখল করে রাখায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।

এই সড়কের পাশেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগরভবন, দু’টি সরকারি হাসপাতাল এবং জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার। এত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিতাইগঞ্জের ভোগ্যপণ্যের মোকামগুলোকে কেন্দ্র করে এক সময় গড়ে ওঠে ট্রাকের স্ট্যান্ড। কয়েক বছর আগে এ ট্রাক স্ট্যান্ড ও ট্রাক থেকে মালামাল লোড-আনলোড শহরের যাজটনের অন্যতম কারণ হয়ে উঠলে স্ট্যান্ড সরানোর আলাপ ওঠে। ওই সময় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের সম্মতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নিতাইগঞ্জের সড়কের উপর ট্রাকের স্ট্যান্ড অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

ওই সময় পঞ্চবটিতে ট্রাক টার্মিনাল করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয় রাত আটটা থেকে সকাল আটটা এই সময়ের মধ্যে শহরে ট্রাক ঢুকবে। চাষাঢ়ায় এজন্য ব্যারিয়ারও তৈরি করা হয় যাতে বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে কোনো ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান শহরে না ঢুকতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, এ সিদ্ধান্তের পর নির্দিষ্ট সময়ে নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক দিয়ে মেট্রো হলের পাশ দিয়ে ট্রাকগুলো শহরে ঢুকতো। এজন্য মেট্রো হলের সামনে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের অবস্থানও ছিল। কিন্তু তাতেও শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে মন্ডলপাড়া পর্যন্ত ট্রাকের পার্কিং পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।

ফলে পঞ্চবটিতে ট্রাক টার্মিনাল থাকলেও ব্যবসায়ী ও চালকেরা পুরনো বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে নিতাইগঞ্জের এই সড়কটিকেই স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে প্রতিনিয়ত সড়কটি দখল হয়ে থাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

নিতাইগঞ্জ থেকে মণ্ডলপাড়া পর্যন্ত স্বল্প দূরত্ব স্বাভাবিক সময়ে হেঁটে অতিক্রম করতে ৩ থেকে ৫ মিনিট সময় লাগার কথা। তবে বর্তমানে সড়কের বড় অংশ ট্রাকের দখলে থাকায় যানবাহনে চেপেও যাত্রীদের এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগছে তার চেয়ে অনেক বেশি।

সবচেয়ে সংকটজনক পরিস্থিতি দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের সামনে। সেখানে রাস্তার দুই পাশে দুই লাইনে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পার্কিং করে রাখা হয়। ফলে হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী ও সাধারণ মানুষকে রিকশা বা যানবাহনে উঠতে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

নিয়মিত এই পথে চলাচলকারী এক অটোরিকশা চালক বলেন, “এই রাস্তায় ঠিকমতো গাড়ি চালানো যায় না। হঠাৎ করেই বড় ট্রাক ব্যাক করে বা মোড় নেয়। অনেক সময় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে। সামনে ট্রাক পড়লে ওভারটেক করার সুযোগ থাকে না, এতে যানজট লেগেই থাকে।”

নিতাইগঞ্জে পণ্য ওঠানামার কারণে ট্রাকগুলোর উপস্থিতি একেবারে অস্বাভাবিক নয়, তবে সড়কজুড়ে স্থায়ীভাবে পার্কিং পরিস্থিতিকে অসহনীয় করে তুলেছে, বলেন অন্য চালকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মূল সমস্যা শুধু সড়ক দখল নয়, বরং এর ফলে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিবেশ। বিশেষ করে হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় এই পরিস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্রাকগুলোর থেকে নিয়মিত চাঁদা নেয় একটি পক্ষ। চাঁদাবাজের এই চক্রকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা শেল্টার দেন। চাঁদাবাজি নিয়ে নিজেদের মধ্যে একাধিকবার মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয়দের দাবি, বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ট্রাক চলাচল অব্যাহত থাকলেও হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে এভাবে সড়ক দখল করে পার্কিং বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বিকল্প ট্রাক স্ট্যান্ড ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করতে প্রশাসনের সুস্পষ্ট উদ্যোগ প্রয়োজন।
 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়