০৩ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:১২, ৩ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২১:১৩, ৩ জুলাই ২০২৬

ইয়াবার বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মারধরের অভিযোগ, ’অপপ্রচার’ বললেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

ইয়াবার বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মারধরের অভিযোগ, ’অপপ্রচার’ বললেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ইয়াবা ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় এক প্রবাসীকে মারধর ও নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান বাবুর বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রবাসীর স্ত্রী তানিয়া আক্তার।

তবে অভিযুক্ত নাজমুল হাসান বাবু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে ডেকে উল্টো অভিযাগকারীকে মাদক ব্যবসায়ী বলে অভিযোগ তোলেন ওই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।

এদিকে, লিখিত অভিযোগে তানিয়া আক্তার বলেন, তিনি ফতুল্লা থানার খোজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী রফিকুর ইসলাম রকি আশিক মালয়েশিয়াপ্রবাসী ছিলেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য ২০২৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর দেশে আসেন তাঁর স্বামী। পরে বিদেশে না ফিরে দেশে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেন।

তানিয়া অভিযোগ করেন, নাজমুল হাসান বাবু তাঁর স্বামীর পূর্বপরিচিত হওয়ায় লাভজনক ব্যবসায় অংশীদার করার প্রস্তাব দেন। পরে লোকমুখে জানতে পারেন, তিনি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একপর্যায়ে বাবু নিজেই তাঁর স্বামীকে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ জুন রাত ১০টার দিকে জরুরি কথা আছে বলে ডেকে নেওয়া হয় রকিকে। সেখানে বাবু ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং তাঁর কাছ থেকে ৩৮ হাজার টাকা ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেন। পরে ইয়াবা ব্যবসার বিষয় কাউকে জানালে কিংবা থানায় অভিযোগ করলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

তানিয়া আরও বলেন, তাঁরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেলেও প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত ৩০ জুন রাত ৮টার দিকে বাবুসহ ৫-৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে তাঁদের না পেয়ে বাড়িওয়ালার কাছে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন স্থানে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উল্লেখ করেন তিনি

এদিকে শুক্রবার ফতুল্লার দক্ষিণ সস্তাপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পাল্টা অভিযোগ করেন নাজমুল হাসান বাবু। তিনি বলেন, তিনি একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সরবরাহকারী। ব্যবসার কাজে প্রায়ই জেলার বাইরে থাকতে হয় এবং সম্প্রতি প্রায় ১৫ দিন বাইরে ছিলেন। এলাকায় ফিরে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠকে বসলে সেখানে রফিকুল ইসলাম রকির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ ওঠে।

বাবু বলেন, বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা রকির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ করলে তিনি তাকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার পরামর্শ দেন এবং জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে চলা সম্ভব নয়।

তিনি দাবি করেন, বৈঠকের একপর্যায়ে রকি নিজের মোবাইল ফোন খুঁজে না পাওয়ার কথা বলেন। পরে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। পরদিন ফোন না পাওয়ার বিষয়টি জানালে নতুন মোবাইল কিনে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।

নাজমুল হাসান বাবুর দাবি করেন, এরপরে রকি তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।  এরপর তিনি তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

তিনি বলেন, রকি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অপরাধে জড়ালে তার দায় দল নেবে না।

তানিয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বাবু বলেন, মোবাইল আটকে রাখা ও মাদক ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে প্রকৃত ঘটনার জানতে যাবে।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করতে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এর আগে মাদকবিরোধী কর্মসূচি আয়োজনের পরও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার করা হয়েছিল।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়