আমলাপাড়া স্কুলের নির্বাচন: নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে ভোটারদের
নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়া আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে ভোটের মাত্র দু’দিন আগেই নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়ে করছেন মো. শফিউদ্দিন ভোটারদের বিভ্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষের প্যানেল ও অভিভাবকরা।
তারা বলছেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে নানা অবাস্তব ও খোঁড়া অভিযোগ তুলে তার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা নিয়ে সাধারণ অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এই ঘোষণা দিয়ে মূলত ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো চেষ্টা করছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ড্রিংক অ্যান্ড ডাইন রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলন করে শফিউদ্দিন বয়কটের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিউদ্দিন, তার স্ত্রী ফাহমিদা এবং অপর প্রার্থী তানভীর আলমের স্ত্রী শারমিন আক্তার উপস্থিত থাকলেও তানভীর আলম অনুপস্থিত ছিলেন।
এর আগেও শফিউদ্দিন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে কাল্পনিক নানা অভিযোগ তুলেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে পরবর্তীতে যথানিয়মে মনোনয়নপত্র দাখিল করে প্রতীক পেয়ে শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ভোট চেয়ে জোর প্রচারণা চালিয়েছেন।
এদিকে দীর্ঘদিন পর অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকেরাও আনন্দ উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
শফিউদ্দিনের প্যানেলের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন 'অভিভাবক ঐক্য পরিষদ' থেকে লুৎফর রহমান কাকন (টেবিল), আনিসুর রহমান জুয়েল (চেয়ার), শামছুন নাহার (দোয়াত) ও মার্জিয়া রহমান (দেয়াল ঘড়ি)।
জমজমাট প্রচারণা চালানোর একদিন পর শফিউদ্দিনের নির্বাচন বয়কটের ঘোষণাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন অনেকে।
তিনি মূলত ভোটারদের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি করতে ও ভোটার উপস্থিতি যাতে কম হয় সে কারণে তিনি নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। নির্বাচনের এই সময়ে এসে কাল্পনিক অভিযোগ তুলে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানাচ্ছেন অপর প্যানেলের প্রার্থীরা।
তাদের মতে, শুরু থেকেই কাল্পনিক অভিযোগ তুলে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন শফিউদ্দিন ও তার প্যানেল। মূলত নির্বাচনী মাঠে অভিভাবকদের সমর্থনে পিছিয়ে পড়ে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কায় তারা আগেভাগেই সরে যেতে চাইছেন। এছাড়া শফিউদ্দিন ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীদের মাঝে পরিবারতন্ত্র, অভিভাবকেরা কোনোভাবেই ভালোভাবে নেননি। তিনি আসলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয় নির্বাচনে শফিউদ্দিন নিজের প্যানেলে পারিবারিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রার্থীদের নিয়েছেন। এমনকি বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক শফিউদ্দিনের নিকটাত্মীয় এবং তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই পরিবারতন্ত্র নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শফিউদ্দিন দাবি করেন, বিদ্যালয়ের অফিশিয়াল নম্বর ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী অভিভাবক ঐক্য পরিষদের পক্ষে অভিভাবকদের কাছে ভোট চাওয়া হয়েছে। তার এই অভিযোগ সাধারণ অভিভাবক মহলে তীব্র হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত যেকোনো নির্বাচনে প্রার্থীরা মুঠোফোনে বাণিজ্যিক বাল্ক ম্যাসেজ পাঠিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চান। সেই ধারাবাহিকতায় ম্যাসেজ পাঠানো হলেও সেটিকে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ম্যাসেজ বলে দাবি করেছেন শফিউদ্দিন।
অভিভাবকরা বলছেন, আমলাপাড়া আদর্শ শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শিক্ষার উচ্চ মানের কারণে দীর্ঘদিনের সুনাম ধরে রেখেছে। নিজের ব্যক্তিস্বার্থে মিথ্যা, কাল্পনিক ও বানোয়াট অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার এমন কর্মকাণ্ড থেকে সব পক্ষের বিরত থাকা উচিত। অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনে মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত প্রার্থীদের সততা, যোগ্যতা, শিক্ষাবান্ধব মনোভাব এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করার সক্ষমতা।
স্থানীয় অভিভাবকদের প্রত্যাশা, সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আগামী ২৮ জুন রবিবারের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সক্ষম এমন সৎ প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে পারেন, সেই আহ্বান জানান তারা।





































