চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে টিইউসির সমাবেশ
নারায়ণগঞ্জে চট্টগ্রাম বন্দর দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বন্ধ কল-কারখানা চালু এবং শ্রমিক ছাঁটাই-নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টিইউসি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মন্টু ঘোষ, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাবেক সভাপতি আ. হাই শরীফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ শাহীন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দাস, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, সিটি করপোরেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি শিমুল দাস ও হকার নেতা আব্দুস সালাম।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব টার্মিনাল দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে রাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব দিচ্ছে। তাই লাভজনক এই বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বরং নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এজন্য বন্দরের ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, বাড়িভাড়া ও যাতায়াত ব্যয়ের তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি অত্যন্ত অপ্রতুল। বিদ্যমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই স্থায়ী মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন করে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।
এছাড়া সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর জন্য প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও কিছু মালিক প্রণোদনার সুবিধা নিতে পরিকল্পিতভাবে সংকট সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। তারা বলেন, পোশাক শিল্পের মালিকরা আইনের অপব্যবহার করে কিংবা আইন অমান্য করে হাজার হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করছেন এবং ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিদায় করছেন। এ ধরনের শ্রমিক ছাঁটাই ও নিপীড়ন বন্ধ করে বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালুর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।





































