১৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৪০, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

অবৈধ সম্পদ: বন্দরের সাবেক ওসি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবৈধ সম্পদ: বন্দরের সাবেক ওসি ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা এবং তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল।

অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক ফখরুদ্দীন ভূঞা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায়ও কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২০-২১ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবদলকর্মী শাওন নিহত হওয়ার সময়ও ফখরুদ্দীন ভূঞা জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।

মামলার অপর আসামি তাঁর স্ত্রী জাহানারা খানম। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া এলাকার সৌহার্দ্য টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ফখরুদ্দীন ভূঞা অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয় দুদক।

ওই বছরের ১৭ জানুয়ারি স্ত্রীর পক্ষে ফখরুদ্দীন ভূঞা সম্পদ বিবরণীর ফরম গ্রহণ করেন। পরে ১০ মার্চ জাহানারা খানম তাঁর নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়দেনা ও আয়ের উৎসের বিবরণী জমা দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে জাহানারা খানমের নামে ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। ঋণের পরিমাণ বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪২ টাকা।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া সম্পদের সঙ্গে জাহানারা খানমের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

তবে তাঁর আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৪ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ টাকা।

সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে দুদক জাহানারা খানমের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকা নির্ধারণ করেছে।

এ ঘটনায় জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এবং তাঁর স্বামী পুলিশ পরিদর্শক ফখরুদ্দীন ভূঞার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তকালে এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়