২ বছরেও চালু হয়নি গাজীর কারখানা, জীবিকা সংকটে হাজারো শ্রমিক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী এলাকার গাজী টায়ারস লিমিটেডে আট বছর কাজ করেছেন শেরপুরের মো.ইপন। নিয়মিত বেতনে পরিবার নিয়ে সংসার চললেও ২০২৪ সালের আগস্টে কারখানায় হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর চাকরি হারান তিনি। কয়েক মাস স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করেও সংসার চালাতে না পেরে পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরে এখন গৃহস্থালি করে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন।
ইপনের মতো কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ছিল গাজী গ্রুপের রূপসী ও কর্ণগোপের দুটি কারখানায়। রূপসীতে তৈরি হতো টায়ার, আর কর্ণগোপে পানি তোলার ও সংরক্ষণের পাম্প, মোটর, প্লাস্টিকের ট্যাংক ও পাইপ।
দুই কারখানায় সরাসরি ৭ হাজার ২৩০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। তাদের বড় অংশ ময়মনসিংহ, শেরপুর, মাদারীপুর, বরিশাল ও কুমিল্লার বাসিন্দা। কারখানা বন্ধের পর অনেকে অন্যত্র কাজ নিলেও অধিকাংশই গ্রামে ফিরে গেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গাজী গ্রুপের মালিক সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মালিকানাধীন এসব কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়। ২৫ আগস্ট গাজী গ্রেপ্তার হওয়ার পর রূপসীর গাজী টায়ারস কারখানায় ফের হামলা ও আগুন দেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় অন্তত ১৮২ জন নিখোঁজ হন বলে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ তখন দাবি করেছিল, নিখোঁজদের কেউ তাদের শ্রমিক ছিলেন না।
কারখানা বন্ধের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। রূপসী বাজারের ব্যবসায়ী মো. রাজু বলেন, আগে গাজী টায়ারসের শ্রমিকদের ভিড়ে দোকানে দাঁড়ানোর জায়গা থাকত না। এখন বিক্রি অনেক কমে গেছে। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক সুমন ইসলাম জানান, আগে ছয় ঘণ্টায় যে আয় হতো, এখন ১২ ঘণ্টা চালিয়েও তা হয় না।
এখনো কারখানা দুটি চালু হয়নি। বাইরে থেকে গাজী টায়ারসের প্রধান ভবনকে ধ্বংসস্তূপের মতো দেখা যায়। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও পাহারার জন্য দুই কারখানায় শতাধিক ব্যক্তি কাজ করছেন। সাবেক শ্রমিক রহমত আলী আবার কারখানা চালু হলে চাকরিতে ফিরতে চান।

গাজী গ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুই দফা হামলা ও অগ্নিসংযোগে রূপগঞ্জের দুই কারখানায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কারখানা পুনরায় চালুর ইচ্ছা থাকলেও বীমাসহ কিছু জটিলতা এখনো কাটেনি। এ ছাড়া গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজী দুই বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সরকারের নীতিগত সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। ব্যাংকগুলোও সহযোগিতা করছে। আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”





































