ফ্যাক্টচেক: ‘আমি নারায়ণগঞ্জের ডন’ ভাইরাল ভিডিওটি সচেতনতামূলক কনটেন্ট
সড়কে উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালককে থামানোয় ‘আমি নারায়ণগঞ্জ জেলার ডন’, এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি দেখে অনেকেই এটিকে নারায়ণগঞ্জের কোনো কথিত ‘ডনের’ কর্মকাণ্ড বা বাস্তব ঘটনার ভিডিও হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তবে প্রেস নারায়ণগঞ্জের ফ্যাক্ট-চেক করে দেখেছে, ভিডিওটি কোনো বাস্তব অপরাধী বা ‘ডন’-এর কর্মকাণ্ডের দৃশ্য নয়, বরং এটি একটি সচেতনতামূলক কনটেন্টের অংশ।
ভাইরাল হওয়া প্রায় ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুʼজন আনসার সদস্য একজন মোটরসাইকেল চালককে থামিয়ে কথা বলছেন। মোটরসাইকেল চালককে উল্টো পথে আসতে দেখে তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ভিডিওতে মোটরসাইকেল চালককে বলতে শোনা যায়, ‘আমার জন্য কোনো রং সাইড আর রাইট সাইড নাই। আমি যে দিক দিয়ে যামু, হেটাই রাইট সাইট।’
এরপর এক আনসার সদস্য বলেন, ‘ডনগিরি এখানে চলবে না ভাই।’
জবাবে ওই মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘ডনগিরি আমার জন্যই।’ আনসার সদস্যরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার কাছ থেকে মানুষ কী শিখবে?’ একপর্যায়ে মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ জেলার ডন।’
এই সংক্ষিপ্ত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এর সঙ্গে বাস্তব ‘ডন’ বা অপরাধী কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।
প্রেস নারায়ণগঞ্জ ভিডিওটির মূল কনটেন্ট খুঁজে বের করেছে। এটি মুহাম্মদ রাজিম নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত প্রায় ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি সচেতনতামূলক ভিডিওর অংশ। সেখানে সড়কে ট্রাফিক আইন মানা এবং উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অভিনয়ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এলাকার ফ্লাইওভারের নিচে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভিডিওর দৃশ্যপটে স্থানীয় বিভিন্ন পোস্টার ও ব্যানারও দেখা যায়।
রাজিম নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। আড়াইহাজার উপজেলার সরকারি সফর আলী কলেজে পড়াশোনা করেছেন বলে নিজের ফেসবুক একাউন্টে উল্লেখ করেছেন।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি মূল ভিডিও থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার হওয়ায় এর প্রকৃত প্রেক্ষাপট অনেকের কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। মূল কনটেন্টে এটি সচেতনতামূলক অভিনয় হলেও খণ্ডিত ভিডিওটি দেখে কেউ কেউ এটিকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
মুহাম্মদ রাজিমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নারায়ণগঞ্জের ডন’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরির তথ্যও পাওয়া গেছে।
এসব কনটেন্টের মধ্যে অপরাধ, চাঁদাবাজি, জুয়া ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়ার ভিডিও রয়েছে।
এ ধরনের ভিডিওতে ‘ডন’ চরিত্র বা নাম ব্যবহার করা হলেও সেগুলোকে বাস্তব কোনো অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং কনটেন্টগুলোর উপস্থাপনা ও বক্তব্যের ধরণ থেকে এগুলো বিনোদন ও সচেতনতামূলক অভিনয়ভিত্তিক ভিডিও বলেই প্রতীয়মান হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. হেলাল উদ্দীন জানান, “ভিডিওতে থাকা আনসার সদস্যরা ওই এলাকায় ট্রাফিক ডিউটিতে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে তাঁরা একটি ফান ভিডিও তৈরি করেছিলেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তাঁদের ওই ট্রাফিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, সংশ্লিষ্টরা আনসারের স্থায়ী বা নিয়মিত সদস্য নন; তাঁরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।





































