০৫ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:১৭, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

শিল্পপতি বাবুল বছরে আয়কর দেন মাত্র ১০০ টাকা!

শিল্পপতি বাবুল বছরে আয়কর দেন মাত্র ১০০ টাকা!

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিএনপন্থী ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল।পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইম গ্রুপের কর্ণধার বাবুল স্থানীয়ভাবে “শিল্পপতি প্রাইম বাবুল” বলে অধিক পরিচিত। তবে, অবাক করার মতো তথ্য হলো, এ শিল্পপতি গত অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন মাত্র ১০০ টাকা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন আবু জাফর আহমেদ বাবুল।

প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান বাবুল লিখেছেন, বছরে তার আয় মাত্র সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো। যদিও পেশায় ব্যবসায়ী বাবুলের সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটিরও বেশি।

তার ঋণের পরিমাণও নেহায়েত কম নয়। বাবুল এককভাবে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত। এছাড়া, যৌথভাবে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চ্যাটার্ড ব্যাংকে বাবুলের ঋণের পরিমাণ ১০৪ কোটি টাকা।

বাবুলের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাবুলের স্ত্রী হোসনে আরা জাফরও ব্যবসায়ী। স্ত্রী ছাড়া তানাজ জাহান নামে কন্যাও তার উপর নির্ভরশীল। বাবুলের কন্যা এখনো ছাত্রী হিসেবে উল্লেখ করলেও তার নামে রয়েছে ৩২ লাখ ২১ হাজার টাকার সম্পদ। তবে তিনি আয়কর দেন না।

চলতি অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে বাবুল তার মোট সম্পদ ৯ কোটি ২৮ লাখ ২৫ হাজার ৪৮০ টাকা দেখিয়েছেন। তবে, তিনি আয়কর দিয়েছেন মাত্র ১০০ টাকা।

তার বছরে আয় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৬ টাকা। হাতে নগদ আছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ১৯২ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪১১ টাকা।

৭৫ ভরি স্বর্ণসহ বাবুলের অস্থাবর সম্পত্তিতে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়েছেন বাবুল। যদিও স্বর্ণের মূল্য অর্জনকালীন হিসেবে তিনি ৭৫ হাজার টাকা দেখিয়েছেন।

স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে তার ১ একর কৃষিজমি, ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি এবং গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় পাঁচটি ফ্ল্যাট ও একটি অফিস স্পেস রয়েছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী স্ত্রীর নামেও রয়েছে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৭ টাকা।

জাতীয়তাবাদী দল বা সহযোগী সংগঠনের কোনো পদে না থাকলেও তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আবু জাফর আহমেদ বাবুল। যদিও দল শুরুতে মনোনয়ন দেয় আরেক ব্যবসায়ী নেতা ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান মাসুদকে। পরে মাসুদ নিজে সরে দাঁড়ালে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু গত ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন বাবুল।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এর সময় বাদ পড়েন বাবুল। কেননা, তিনি নিজেকে বিএনপির প্রার্থী দাবি করে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তিনি দলের মনোনয়ন ফরম জমা দিতে পারেননি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়