০৩ মার্চ ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১৭:২১, ২ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২১:০৮, ২ মার্চ ২০২৬

আইভীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে: আইনজীবী

আইভীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে: আইনজীবী

দশটি মামলায় হাই কোর্টে জামিন পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নতুন আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেছেন, “আইভীকে হাজতে রাখার জন্য মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

সোমবার (২ মার্চ) সকালে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় আইভীকে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখাতে আবেদনের শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

গত বছরের ৯ মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ সব মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পেলে আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার নতুন পাঁচটি মামলাতেও হাই কোর্ট তাকে জামিন দেয়। সকালে এ জামিনের আদেশ হলে বিকেলে নারায়ণগঞ্জের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইভীকে আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা পুলিশ।

সোমবার ওই আবেদনের শুনানি হয়। আদালতে এ সময় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অভিযুক্ত সেলিনা হায়াৎ আইভী। শুনানি শেষে আদালত পুলিশের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনটি মঞ্জুর করেন বলে জানান আওলাদ হোসেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনের সময়ের ১০টি মোকাদ্দমায় সেলিনা হায়াত আইভীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। নতুন আরও একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করা হয়। এই মামলায় আইভীর নাম নেই। এই মোকদ্দমার কোনো সিডি নাই, ওয়েল ফাউন্ডিং কোনো কেইস নাই। এই মোকদ্দমার সময়গুলো হচ্ছে এক ঘণ্টা আধা ঘণ্টার ডিফারেন্সে। একই আসামি ফতুল্লাতে হত্যা করলো, আবার একই আসামি আদমজীতে হত্যা করলো, একই সময়ে, সে ডাচ বাংলা ব্যাংক, চিটাগাং রোডে হত্যা সংঘটিত করলো, এটা বাস্তবে সম্ভব না।

“এগুলো মিথ্যার অপলাপ। তাকে হাজতে রাখার জন্য মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করা হয়েছে। আমরা বিষয়গুলো আদালতে বলেছি, কিন্তু আদালত গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত লড়াইয়ে যাবো।”

সেলিনা হায়াৎ আইভী দেশের প্রথম নারী মেয়র। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। এরপর ২০১৬ ও ২০২২ সালের নির্বাচনেও বড় ব্যবধানে জয় পান তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইভীকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ থেকে অপসারণ করে। অপসারণের ৯ মাস পর তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়