০৫ জানুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:৪৯, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই

নারায়ণগঞ্জে ৪০ প্রার্থী বৈধ, বাতিল ১৬

নারায়ণগঞ্জে ৪০ প্রার্থী বৈধ, বাতিল ১৬

নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৪০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বাতিল হয়েছে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ ১৬ জনের মনোনয়নপত্র।

তবে, পাঁচটি আসনেই বিএনপি ও তাদের জোট ঘোষিত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাদের প্রস্তাবকারী-সমর্থনকারীর উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন।

এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়াও আটজন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ, আয়কর বিভাগসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ-১

রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে- বিএনপির প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইমদাদুল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. কাইয়ুম শিকদার ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রেহান আফজালের।
হলফনামায় স্বাক্ষর না করায় বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান চন্দনের। এছাড়া, ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলালেরও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২

আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতেও বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, সিপিবির মো. হাফিজুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর মো. ইলিয়াস মোল্লা, গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালামও বৈধ।

তাদের মধ্যে আঙ্গুর, হাফিজুল ও ইলিয়াসের আয়কর বকেয়া থাকায় মনোনয়নপত্র সাময়িক স্থগিত রাখেন। কিন্তু বিকেলে তাদেরও বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আবু হানিফ হৃদয়, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ, স্বতন্ত্র পার্টির আবদুল আউয়াল ও মিনহাজুর রহমান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, আবু হানিফ হৃদয় ঋণখেলাপী এবং হাবিবুল্লাহ তার প্রস্তাবকারী-সমর্থনকারী ও হলফনামায় সম্পদের তথ্য অসম্পূর্ণ দিয়েছেন। অপর দু’জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক শতাংশ ভোটার স্বাক্ষরে গড়মিল পান।

নারায়ণগঞ্জ-৩

সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বৈধ প্রার্থী ১০ জন। তারা হলেন: বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম মসীহ্, জনতার দলের আবদুল করিম মুন্সী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. শাহজাহান, আমার বাংলাদেশ পার্টির আরিফুল ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী।

আসনটিতে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম। তিনি এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

নারায়ণগঞ্জ-৪

সদর উপজেলার সাত ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসনটিতে সর্বোচ্চ ১৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে নয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষিত হয়েছে। এ তালিকায় বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ছাড়াও আছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. সুলাইমান দেওয়ান।

তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ও গিয়াস উদ্দিন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। গিয়াস উদ্দিনকে সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন।

আলীর মনোনয়নপত্রটি সাময়িক স্থগিত ঘোষণা করেন। তার মালিকানার একটি শিল্প কারখানার গত নভেম্বরের গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় এ সিদ্ধান্ত দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে বিকেলে তার মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

তবে, বাদ পড়া পাঁচজন প্রার্থীরা হলেন: হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য থাকায় সিপিবির ইকবাল হোসেন ও গণঅধিকার পরিষদের আরিফ ভূঁইয়া, হলফনামায় স্বাক্ষর না করায় বাংরাদেশ সুপ্রীম পার্টির সেলিম আহমেদ, গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা এবং এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাতেমা মনির।

নারায়ণগঞ্জ-৫

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলা এলাকা নিয়ে গঠিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে বৈধ আট প্রার্থী হলেন: বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাছুম বিল্লাহ, খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের এইচএম আমজাদ হোসেন মোল্লা ও সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ।

আসনটিতে বাতিল করা হয়েছে বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু জাফর আহমেদ বাবুল, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নাহিদ হোসেন এবং স্বতন্ত্র মাকসুদ হোসেনের মনোনয়নপত্র।

রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, তাদের মধ্যে সাখাওয়াত ও বাবুল নিজেদের জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী উল্লেখ করে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তারা দলের মনোনয়ন ফরম সংযুক্ত না করায় বাতিল বলে ঘোষিত হন। হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ায় নাহিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনের নামে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া থাকায় তার মনোনয়নপত্রটিও বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়