নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবসে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের মানববন্ধন
সারাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধ ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে ৩১তম নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (২৪ আগষ্ট) বিকাল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম নারায়নগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুন্নাহার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুইটি বেগম, জেলার সংগঠক মুন্নি সরদার।
এ সময় নেতারা বলেন, ১৯৯৫ সালের ২৩ আগস্ট ইয়াসমিন নামের ১৪ বছরের এক কিশোরী গৃহকর্মী ঢাকা থেকে দিনাজপুর বাড়ি ফেরার পথে ভোর রাতে পুলিশ কর্তৃক ধর্ষিত ও হত্যার শিকার হয়েছিল। পরেরদিন দিনাজপুরে প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে হত্যা করে ৭ জন সংগ্রামী মানুষকে। দিনাজপুরের সংগ্রামী জনতার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কোন অপচেষ্টাই আন্দোলন নস্যাৎ করতে পারেনি। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে বিচারে ধর্ষক ও খুনিদের ফাঁসির রায় এবং ২০০৪ সালে তা কার্যকর হয়। ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন ও বিচারের রায় মানুষের মনে এক প্রতিবাদী চেতনার জন্ম দেয়। এই আন্দোলন ও ইয়াসমিন স্মরণে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট পালিত হয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস (ইয়াসমিন হত্যা দিবস)।
নেতৃবৃন্দ বলেন, 'আমাদের দেশে নারীরা প্রতিনিয়ত নানাবিধ নির্যাতন, নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। দেশে গত ৬ মাসে ২৩৮ জন শিশু-কিশোরীসহ ৪০৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩২০ জন নারী। ১ হাজার ৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিপরীতে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ! মামলার প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে আসামিরা খালাস পান, ১৩ শতাংশ আপস বা মিটমাট হয়ে যায়। আইনগতভাবে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার নিয়ম থাকলেও গড় সময় লাগে ৩.৭ বছর।'
তারা আরো বলেন, নারী নির্যাতনের অনেক কারণ সমাজে বিদ্যমান। একটি প্রধান বিষয় বিচারহীনতার রেওয়াজ। বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সমাজেও অপরাধ ও অপরাধীরা সহনশীল হতে থাকে। অন্যদিকে সহিংসতার শিকার নারী ও তার পরিবার সমাজে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সবমিলিয়ে 'জোর যার মুলুক তার' এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়; যেখানে অন্যায় ও অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া নানাবিধ পরক্ষ কারণেও নারী-শিশু নির্যাতন বেড়ে যায়। বাংলাদেশে নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব ভীষণভাবে বেড়ে চলেছে। সাইবার বুলিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নারীকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা বাড়ছে। এক্ষেত্রে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতা প্রধানত দায়ী। নারীর প্রতি চরম ভোগবাদী মনোভাব কোন ক্ষেত্রে নারীকে বাজারী পণ্যে পরিণত করছে; কোন ক্ষেত্রে তাকে গৃহবন্দি, পোশাকে মুড়িয়ে অবরোধবাসিনী হতে বাধ্য করছে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারীর মানবিক মর্যাদা ও অধিকার।' নেতৃবৃন্দ বলেন, 'নারী নির্যাতন সমাজ বিচ্ছিন্ন কোন বিষয় নয়। যে সমাজে বৈষম্য প্রকট, সে সমাজে নির্যাতন একটি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়। বৈষম্যহীন সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম নারী মুক্তির একমাত্র পথ। পুঁজিবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থা বহাল রেখে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা একদিকে নারীকে পণ্যে পরিণত করে অন্যদিকে ভোগবাদী মানসিকতাকে লালন করে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস এই অন্যায় অন্যায্য সমাজ ব্যবস্থাকে পরিবর্তনের শিক্ষা দেয়।'





































