২৫ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:৩৩, ২৪ আগস্ট ২০২৬

সোনারগাঁয়ে বিএনপির রউফকে বহিষ্কার নিয়ে প্রশ্ন

সোনারগাঁয়ে বিএনপির রউফকে বহিষ্কার নিয়ে প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফকে দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ের কোনো নেতাকে সরাসরি বহিষ্কারের ক্ষমতা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেই বলে দাবি করেছেন দলের নেতারা।

গত ২২ আগস্ট আব্দুর রউফ এবং তার ভাই উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়ে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

এরপরই বহিষ্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিল দুই সহোদর। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি উপজেলার আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার তিন দিন পর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দলের সুনাম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন।

তবে, দলীয় নেতাদের একাংশের ভাষ্য, কোনো নেতা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন বা দলীয় পদ ব্যবহার করে অনিয়মে জড়িত হলে উপজেলা কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে। তবে সরাসরি দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করার এখতিয়ার উপজেলা কমিটির নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “যারা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন, তারা মূলত দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ করেননি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সরাসরি বহিষ্কারের সুযোগ নেই।”

তাদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ না করেই আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে সরাসরি বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আব্দুর রউফ বলেন, “গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক আমাকে বহিষ্কার করতে পারেন না। তাদের মূলত জেলা কমিটির কাছে বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানোর কথা। তারা সরাসরি আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে পাঠিয়ে যে প্রচার করেছে, তা সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রপরিপন্থী।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং দলের চেয়ারম্যানের কাছে সুবিচার চাই। আমি কোনো দোষ বা দলের বদনাম কিংবা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকলে বিএনপির চেয়ারপার্সন আমাকে যে শাস্তি দেবেন, তা আমি মাথা পেতে নেব।”

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, “দল থেকে কাউকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা একমাত্র দলীয় চেয়ারম্যানের। উপজেলা বিএনপির কোনো নেতা দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করেন বা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ওই নেতার নেতিবাচক কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ জেলা কমিটির কাছে পাঠাবেন।”
তিনি বলেন, “জেলা কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করবে। এরপর দলীয় চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা দেবেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটি বা সংশ্লিষ্ট কমিটি বহিষ্কারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”

ফলে আব্দুর রউফকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপি গঠনতন্ত্রের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে কি না, সেটিই এখন দলের ভেতরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন দলের একাংশের নেতারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়