২৫ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ২৪ আগস্ট ২০২৬

বড় কোম্পানির দাপটে নিতাইগঞ্জে মন্দা, ক্রেতাশূন্য ডাল-চালের আড়ত

বড় কোম্পানির দাপটে নিতাইগঞ্জে মন্দা, ক্রেতাশূন্য ডাল-চালের আড়ত

নারায়ণগঞ্জের পাইকারি শস্যের সবচেয়ে বড় মোকাম নিতাইগঞ্জে বেচাকেনায় তীব্র মন্দা দেখা দিয়েছে। বাজারে কোনো কোনো পণ্যের দাম কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ আড়তেই ক্রেতার উপস্থিতি কম। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বড় কোম্পানিগুলো সরাসরি ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে পণ্য সরবরাহ করায় নিতাইগঞ্জের পাইকারি বাজারে আগের মতো ক্রেতা আসছেন না। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে নিতাইগঞ্জের ডালপট্টি ও চালপট্টি ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ডাল ব্যবসায়ী রামু সাহা জানান, গত এক মাসে মোটা মসুর ডালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চিকন মসুর ডালের দাম আগের মতোই ১৫৫ থেকে ১৫৬ টাকায় রয়েছে। বুটের ডাল বা ছোলার দাম বেড়ে ৮৬ থেকে ৮৭ টাকা এবং এংকর ডালের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা হয়েছে।

বাজারে দরবৃদ্ধি ও বেচাকেনার মন্দাভাব সম্পর্কে রামু সাহা বলেন, “এখন আর আগের মতো সরাসরি চট্টগ্রামের আমদানির ওপর ডালের বাজার নির্ভর করে না। বাজার এখন বড় বড় কোম্পানির হাতে চলে গেছে। আকিজ, নাবিল, মদিনা কিংবা ক্রাউনের মতো কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী কোম্পানি বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের মধ্যস্থতা ও সিন্ডিকেটের কারণেই দর ওঠানামা করে।”

তিনি আরও বলেন, “কোম্পানিগুলো ডিলারদের মাধ্যমে সরাসরি খুচরা পর্যায়ে মাল পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে নিতাইগঞ্জের মতো বড় পাইকারি বাজারে আগের মতো ক্রেতারা আসছেন না।”

এদিকে নিতাইগঞ্জের চালের বাজারে দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও বেচাকেনায় মন্দাভাব দেখা গেছে। মিজান রাইস এজেন্সির এক ব্যবসায়ী জানান, দিনাজপুর, শেরপুর, কুষ্টিয়া ও নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাল আসছে।

বর্তমানে ২৮ ও লতা জাতের চাল ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, মাঝারি মানের মিনিকেট ২ হাজার ৮০০ টাকা, ভালো মানের মিনিকেট ৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং নাজিরশাইল ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম গত এক মাসে না বাড়লেও বেচাকেনা কমেছে বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, “বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় খুচরা দোকান বেড়ে যাওয়ায় নিতাইগঞ্জে দূরদূরান্তের ক্রেতাদের আসা কমে গেছে। ফলে বেচাকেনায় মন্দা দেখা দিয়েছে।”

ব্যবসায়ীদের মতে, একসময় দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ নিতাইগঞ্জ থেকে ডাল, চালসহ বিভিন্ন শস্য কিনতেন। এখন বড় কোম্পানিগুলো সরাসরি ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ায় নিতাইগঞ্জের ওপর সেই নির্ভরতা কমছে।

এতে শুধু বেচাকেনাই কমছে না, পাইকারি বাজারে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টিকে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তাদের আশঙ্কা, বড় কোম্পানিগুলোর বাজার নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়লে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই পাইকারি মোকামের ব্যবসায়িক গুরুত্বও ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়