০৬ আগস্ট ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২০:২৭, ৫ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ২০:২৭, ৫ আগস্ট ২০২৬

সোনারগাঁয়ে আবাসিক এলাকায় মশার কয়েল কারখানার ছাড়পত্র না দেওয়ার দাবি

সোনারগাঁয়ে আবাসিক এলাকায় মশার কয়েল কারখানার ছাড়পত্র না দেওয়ার দাবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াপুরের আবাসিক এলাকায় প্রস্তাবিত একটি মশার কয়েল কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র পুনরায় দেওয়ার উদ্যোগের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় নয়াপুর গ্রামের মসজিদের পক্ষ থেকে মো. মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধন সাহা এবং এলাকাবাসীর পক্ষে কবি ও পরিবেশসংগ্রামী শাহেদ কায়েস উপস্থিত ছিলেন।

শাহনাজ মুন্নী বলেন, ৩০ বছর সাংবাদিক হিসেবে অন্যের সংবাদ সম্মেলন কভার করলেও এবার পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে নিজেকেই সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সোনারগাঁয়ের নয়াপুর গ্রামের মসজিদ, মন্দির ও একটি মহিলা মাদ্রাসাসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ নামে একটি মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারখানাটি চালু হলে বিষাক্ত দূষণের কারণে এলাকায় বসবাস কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তার দাবি, এলাকাবাসীর আবেদনের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে মোট নয়বার তদন্ত করা হয়। প্রতিটি তদন্তেই এলাকাটিকে আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে আইন অনুযায়ী মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের অনুপযোগী বলে মত দেওয়া হয়। পরে পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানাটির অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করে।

শাহনাজ মুন্নীর অভিযোগ, পরবর্তীতে আপিলের মাধ্যমে কারখানাটি ছাড়পত্র পেলেও পরবর্তী তদন্তে সেই অনুমোদনও বাতিল করা হয়। এখন আবারও আগামী ৬ আগস্ট আপিল শুনানির মাধ্যমে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের নয়বার তদন্ত ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত মাত্র ১৫ মিনিটের আপিল শুনানিতে কীভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব? তার অভিযোগ, আপিল ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহল পরিবেশগত ছাড়পত্র আদায়ের চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, একই এলাকায় এর আগে ‘ইমাম পোলট্রি ফার্ম’ পরিবেশ আইনের আওতায় বন্ধ করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আরও বেশি দূষণকারী একটি কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ পরিবেশ ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।

তিনি প্রস্তাবিত কারখানাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র পুনরায় না দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ সংশোধন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতে আপিলের ব্যবস্থা চালু এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’-এর ছাড়পত্র আবেদন নামঞ্জুর করার দাবি জানান।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়