০৪ জুলাই ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ৪ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২১:৫১, ৪ জুলাই ২০২৬

মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমৃত্যু সোচ্চার ছিলেন আব্দুর রহমান

মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমৃত্যু সোচ্চার ছিলেন আব্দুর রহমান

ছাত্রজীবন থেকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত নিরাপদ শহর গড়া ও মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক, রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান। তাঁর সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনের পাতাল মেঝেতে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত আব্দুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা।

সভাপতির বক্তব্যে এবি সিদ্দিক বলেন, “রহমান ভাই ছাত্রজীবন থেকে নাগরিক জীবন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজস্ব কর্মের ছাপ রেখে গেছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গণআন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি চিরদিন আমাদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন।”

অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, “রহমান ভাই ছিলেন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি এবং পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের নাগরিক আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের পর আমরা যখন আন্দোলনে নেমেছিলাম, তখন তিনি আমাদের মাঝে মধ্যমণি হয়ে ছিলেন। কোনো অন্যায়ের সঙ্গে তিনি কখনো আপস করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমার জীবনের অনেক অর্জনের পেছনে রহমান ভাইয়ের অবদান রয়েছে।”

আব্দুর রহমানের বড় ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু বাবার শেষ সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “শেষ বয়সে বাবা তাঁর সহযোদ্ধাদের খুব মিস করতেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চলাফেরা কমে যায়, কথা বলার মানুষও কমে যায়। আমি চাই, নারায়ণগঞ্জের স্বার্থে কাজ করা মানুষরা একটি পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হোন। সবাই যেন একসঙ্গে বসার এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করেন।”

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জের নাগরিক অধিকার আদায়, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শহর গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে আবদুর রহমানের আপসহীন ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজল, সুজন নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, সিপিবির দুলাল সাহা, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়