গলাচিপায় মাদক-সন্ত্রাস প্রতিরোধে সম্মেলন, যৌথ অভিযানের ঘোষণা প্রশাসনের
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার গলাচিপা রুপার বাড়ি এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে একতা, সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের আহ্বানে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে মাদক নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ, যৌথ অভিযান এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে গলাচিপা রুপার বাড়ি এলাকায় প্রতিবেশী নিরাপত্তা কমিটি (প্রনিক)-এর উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন মন্টু এবং সঞ্চালনা করেন কমিটির সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হুমায়ুন কবীর রিপন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী, ৬২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, গলাচিপাবাসীর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। মাদক নির্মূলে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি এলাকায় একটি খেলার মাঠ, একটি লাইব্রেরি এবং খাসজমি থাকলে জনকল্যাণমূলক কাজে বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ভালো মানুষের ঐক্যই সমাজ পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। পরিত্যক্ত সিটি করপোরেশনের ভবন ব্যবহারের জন্য আবেদন করা হলে তা বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে অনেক আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসে। তবে গলাচিপাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সুপারিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, এলাকার ২৫ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য কুটির শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
৬২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, সীমান্তের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এলাকাতেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
র্যাবের প্রতিনিধি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল আলম বলেন, এলাকায় একাধিক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁস ও পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেক সময় অভিযান ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে স্থানীয় বাসিন্দারা নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিস্তার, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং পরিত্যক্ত স্থাপনা অপসারণের দাবি জানান। এ সময় যুব উন্নয়ন বিভাগের প্রতিনিধি জানান, মাদকমুক্ত ব্যক্তিদের হাঁস-মুরগি পালন, লেয়ার ফার্মসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এছাড়া রুপার বাড়ি এলাকা ও তোলারাম কলেজের পেছনের পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ করে সেখানে থানা বা জনসেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তাবও সভায় উত্থাপন করা হয়।
আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রতিবেশী নিরাপত্তা কমিটির সমন্বয়ক বিপুল, আলমগীর আজিজ ইমন, কামাল মল্লিক, সোহেল মল্লিক, মুকুল, মাহফুজ, মোক্তার, রুমি সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।





































