‘ভাষা আন্দোলনে কমিউনিস্টদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা
বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার ৮৭তম সাহিত্য আড্ডা উপলক্ষে ‘ভাষা আন্দোলনে কমিউনিস্টদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের আলী আহাম্মদ চুলকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি শহিদুল আলম নান্নু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস।
আলোচনায় অংশ নেন জেলা শাখার সভাপতি জাকির হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিন্টু, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা ও রাজলক্ষী, কবি সেলিম ভূঁইয়া, নির্মল সাহা, শুক্কুর মাহমুদ জুয়েল, জয়নুল আবেদীন জয়, কবি মিথুন খান, নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট মুন্নি সর্দার ও ছাত্র নেতা অয়ন্তসহ অন্যান্যরা।
আলোচকগণ বলেন, ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ১৯৪৭ সালেরও আগে। পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই রাষ্ট্রভাষা কী হবে- তা নিয়ে লেখক, বুদ্ধিজীবী ও ভাষাবিদদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ভাষাবিদ ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক শিক্ষকদের উদ্যোগে ‘তমুজউদ্দিন মজলিস’ গড়ে ওঠে, যারা রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে মতামত তৈরি করেন।
১৯৪৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ও পার্টি প্রভাবিত ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। ওই বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী ভাষা আন্দোলন সংগঠিত হলে পাকিস্তান সরকার দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তা দমন করে। এরপর পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি জেলা-জেলায় ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আলোচনায় বলা হয়, তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতাদের মধ্যে মো. তোয়াহা, সুলতান মো. মনসুর, রণেশ দাশগুপ্ত ও শহিদুল্লাহ কায়সার ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। অনেক নেতা-কর্মী তখন কারাগারে বন্দি ছিলেন। ছাত্র নেতাদের মধ্যে আব্দুল মতিন ও জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৫২ সালের জানুয়ারি থেকে ভাষা আন্দোলন নতুন করে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণার পর পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ছাত্রদের দৃঢ় অবস্থানের ফলে ১৪৪ ধারা ভেঙে আন্দোলন এগিয়ে যায়। পুলিশের গুলিতে ছাত্রদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলন জয়লাভ করে এবং উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়।
আলোচকরা বলেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি ও তাদের প্রভাবিত ছাত্র নেতৃত্ব ভাষা আন্দোলনের সামনের কাতারে থেকে জীবন বাজি রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি জহিরুল ইসলাম মিন্টু, তিথি সুবর্ণা, কবি হাবিব সিদ্দিকী, মৃত্যুঞ্জয় দত্ত, কবি মিথুন খান, কবি ইয়াদী মাহমুদ, পল্লবী প্রত্যাশা, কবি মরিয়ম কবিতা ও কবি রিতা রহমানসহ অনেকে।





































