১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ:

প্রকাশিত: ১৬:০২, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৬:০৩, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

নারায়ণগঞ্জ: কে কত ভোট পেলেন

নারায়ণগঞ্জ: কে কত ভোট পেলেন

ভোটের রাত পেরিয়ে সকাল গড়াতেই একে একে খুলতে থাকে ব্যালটের হিসাব, আর সেই সঙ্গে স্পষ্ট হতে থাকে জয়-পরাজয়ের গল্প। উত্তেজনা, প্রত্যাশা আর অঙ্কের হিসাব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে তৈরি হয় ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্যপট। কোথাও ব্যবধান গড়ে দেয় স্বস্তির জয়, কোথাও আবার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান ছিল ফলাফলের পাল্লা। শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে কত ভোট জমা পড়ল—সেই সংখ্যাই নির্ধারণ করে দিল রাজনৈতিক ভাগ্য।

প্রেস নারায়ণগঞ্জের এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে কে কত ভোট পেলেন, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন। তাদের মধ্যে ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৮১ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৪ ভোট বৈধ এবং ৫ হাজার ৯৭ ভোট বাতিল করা হয়।

আসনটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা ৯১ হাজার ৬৯০, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিন ২১৯, জাহাজ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল ৪৬৩, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইমদাদুল্লাহ ৭ হাজার ১৮৬, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান চন্দন ২৬১ এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল আপেল প্রতীকে ২০৭ ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮ জন। তাদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে বৈধ ভোট ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৩ এবং ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট বাতিল হয়।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম আজাদ সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাকিদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র প্রার্থী মো. ইলিয়াছ মোল্লা ৮১ হাজার ৫৪, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ ৫ হাজার ২৬৫, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতাউর রহমান খান ১৮ হাজার ৭৪৪, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. হাফিজুল ইসলাম ৩৫০, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয় ২২৭ এবং গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া ১৪২ ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৬ জন। তাদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৫২ ভোট বৈধ এবং ৭ হাজার ৭৬৪ ভোট বাতিল হয়। এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।

বাকিদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মো. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ২০ হাজার ৩৭৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ৪ হাজার ৫৯৬, গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস ৬৩৮, জনতার দলের আবদুল করীম মুন্সী ২৮৫, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আরিফুল ইসলাম ১৩৭, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম মসীহ ১৪ হাজার ২২৩, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহজাহান ১ হাজার ১৯৩, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী ৭৬৯ এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী ৩১৪ ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪০ হাজার ৮১৩ জন। তাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬২ হাজার ৭২৯ ভোট বৈধ এবং ৬ হাজার ৩৫৯ ভোট বাতিল হয়েছে।

বৈধ ভোটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আব্দুল্লাহ আল আলামিন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

বাকিদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মনির হোসাইন কাসেমী ৮০ হাজার ৬১৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম ৩৯ হাজার ৫৮৯, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইসমাঈল হোসেন কাউছার ১৬ হাজার ৭৪৬, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) মোহাম্মদ আলী ১১ হাজার ৩২৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ৪ হাজার ৭৭৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন ৮০০, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ইকবাল হোসেন ৪৭৯, জাতীয় পার্টির মো. ছালাউদ্দিন খোকা ৮১৭, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফ ভূঁইয়া ১০৬, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. সুলাইমান দেওয়ান ৩৭০, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. সেলিম আহমেদ ৬৪৩ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সেলিম মাহমুদ ২৮২ ভোট পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮৪ জন। তাদের মধ্যে ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫৭ ভোট বৈধ এবং ৭ হাজার ৮৯৩ ভোট বাতিল হয়।

আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হয়েছেন।

বাকিদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন ১ লাখ ১ হাজার ১৯৬, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাকসুদ হোসেন ৩৪ হাজার ১৫১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মো. মাছুম বিল্লাহ ৭ হাজার ৭০৮, সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ ১ হাজার ৫৭৫, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম ১ হাজার ২৩, গণঅধিকার পরিষদের মো. নাহিদ হোসেন ৬৪৩, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী ৪ হাজার ৬৫০, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব ৩৭০ এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা ২৪২ ভোট পেয়েছেন।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়