আদর্শ স্কুলের সাবেকদের ‘ক্রীড়া কার্নিভাল’
বাংলাদেশে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বিদ্যালয়ের সকল সাবেক ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত হলো বিশাল ক্রীড়া উৎসব “এডি.এস.এন.এক্স.এস স্পোর্টস কার্নিভাল-২০২৫”। এই আয়োজনের অধীনে অনুষ্ঠিত হলো আদর্শ স্কুল এক্স স্টুডেন্ট প্রিমিয়ার লিগ সিজন-২। শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) ওসমানীর পৌর স্টেডিয়ামে এ কার্নিভাল সম্পন্ন হয়।
টুর্নামেন্টে ১৯৯০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মোট ২৭টি দল অংশগ্রহণ করে। বর্তমান টুর্নামেন্টের বৈশিষ্ট্য হলো- সিনিয়র গ্রুপ (১৯৯০-২০১০ ব্যাচ) এবং জুনিয়র গ্রুপ (২০১১-২০২৫ ব্যাচ) আলাদা করে দুটি ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে সিনিয়র গ্রুপে আদর্শ-২০১০ দল আদর্শ-২০০৮ কে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করে এবং জুনিয়র গ্রুপে আদর্শ-২০১৫ আদর্শ-২০১৬ কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
স্পোর্টস কার্নিভাল পরিচালনার প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন আদর্শ-১৯৯০ ব্যাচের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোয়াবের সিনিয়র সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া পরিষদের সদস্য শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ।
ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্যাচের বিশিষ্ট সাবেক শিক্ষার্থী ও সমাজসেবক, যেমন আদর্শ-১৯৮৬ ব্যাচের রোটারিয়ান কাজী জাহিদুল ইসলাম, আদর্শ-১৯৮৯ ব্যাচের মোরশেদ সারোয়ার সোহেল, আদর্শ-১৯৯১ ব্যাচের শওকত খন্দকার ও নাজমুল কবির নাহিদ, আদর্শ-১৯৯৩ ব্যাচের মিনহাজুল ইসলাম (এসপি, বাংলাদেশ পুলিশ), আদর্শ-১৯৯৭ ব্যাচের আসাদুজ্জামান রুমি ও জেনিথ ডেন্টাল কেয়ার এর প্রতিষ্ঠাতা ডা. জেনিথ, আদর্শ-১৯৯৯ ব্যাচের মেহেদী হাসান ও আয়কর উপদেষ্টা রাশিদুল ইসলাম সেজিন।
কার্নিভাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জাহিদুল হাসান জিতু (আদর্শ-২০০১ ব্যাচ) এবং সদস্য সচিব হিসেবে ইয়াসির সুলতান (আদর্শ-২০০৮ ব্যাচ)। ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আলিফ রহমান রিদয় (আদর্শ-২০০৮), মেহেদী হাসান (আদর্শ-২০০৩), আজাহারুল ইসলাম জামি (আদর্শ-২০১২) এবং সৈকত হোসেন (আদর্শ-২০০৫)।
এই টুর্নামেন্টের সফলতায় অংশগ্রহণকারী সব স্তরের আদর্শ স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এই আয়োজন শুধু নারায়ণগঞ্জে নয়, পুরো দেশে ভাতৃত্বের শক্ত বন্ধন ও ঐক্যের উদাহরণ স্থাপন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরাও সামাজিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
উক্ত টুর্নামেন্ট কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি আদর্শ স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতা, ভাতৃত্ববোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। এতে প্রতিটি ব্যাচের শিক্ষার্থী তাদের সেরা পারফরম্যান্স এবং সংগঠনিক দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন।
উৎসবের ফাইনাল পর্বে প্রধান অতিথি ফারুক আহমেদ ও উপস্থিত বিশিষ্টজনরা টুর্নামেন্টের আয়োজনকে অত্যন্ত প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও বড় আয়োজনে অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া মনোভাব, দলবদ্ধতা এবং নেতৃত্বগুণ প্রদর্শন করেছেন, যা বাংলাদেশের ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনের জন্য অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই উদ্যোগের ফলে স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সংহতি এবং দেশপ্রেমের চেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে ক্রীড়া শুধু শারীরিক দক্ষতা নয়, বরং সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।





































