০৫ নভেম্বর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯:২১, ৫ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৯:২১, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শ্রমিক অসন্তোষে এনসিপি-জামায়াতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: মাসুদুজ্জামান

শ্রমিক অসন্তোষে এনসিপি-জামায়াতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ: মাসুদুজ্জামান

নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক অসন্তোষ ও সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ব্যবসায়ীদের কাছে ‘প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক ও হতাশাজনক’ মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর চাঁদমারি এলাকায় চেম্বার ভবনে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে আয়োজিত জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

মাসুদ বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি, এটা আমাদের বাংলাদেশ। কিন্তু বিরোধী দলের যে ভূমিকা এনসিপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, সেটাও আমাদের কাছে, ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ, রহস্যজনক এবং হতাশাজনক মনে হয়েছে। কারণ, এই দেশ তো শেষ পর্যন্ত আমাদেরই। আমাদেরই আসলে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’

সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত তিন দিনের একটি অভিজ্ঞতা আমার কাছে একটু নতুন প্রকৃতির অভিজ্ঞতা মনে হয়েছে। যেদিন একটি ওয়েজেস বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলো, তার আগেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলো, যেটার কোনো দরকার ছিল না। এর সঙ্গে কোনো মালিকের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। কোনো মালিকের মতামত ছিল না, শ্রমিকেরও কোনো মতামত ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘কিছু নেতৃবৃন্দ ৩০ হাজার টাকার দাবি তুলেছেন। সেটা মজুরি বোর্ড নির্ধারণ করবে অথবা মজুরি বোর্ড সেই চিন্তাভাবনা করে গঠন করা হবে। সেই সময়টুকু না দিয়ে প্রায় ৬৭ থেকে ৬৮টি কারখানায় আগের দিনই আক্রমণ করা হলো, ভাঙচুর করা হলো, জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। এর পেছনে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের কথা আমরা জানতে পারি।’

শ্রমিকদের আন্দোলন প্রতিহত করা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য ছিল না উল্লেখ করে মাসুদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত বক্তব্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, ‘আমাদেরও প্রয়োজন ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি আমাদেরই ছোট ভাইকে পাশে পাওয়া। আমার দরকার ছিল, আপনারা সবাই মিলে একটি বক্তব্য দিতেন। এটা তো প্রতিহত করার ব্যাপার না। আমরা তো শ্রমিকদের প্রতিহত করতে চাইনি। আমরা চেয়েছি, এই পরিস্থিতিটা সামাল দিতে।’

মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আরও ভালো হতো, যদি আপনারা সবাই মিলে একই বক্তব্য দিতেন যে মজুরি বোর্ড গঠন হবে, গঠন হচ্ছে। আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন। যেটা নির্ধারণ হবে, আপনারা কি এযাবৎকালে দেখেছেন, এখানে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের কেউ কখনো মজুরি বোর্ড যে বেতন কাঠামো বেঁধে দিয়েছে, সেটাতে আপত্তি করেছেন বা দেননি? এরকম কখনো হয়েছে? কখনোই হয়নি এবং হবেও না, আশা করি।’

ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দপ্তরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব খরচ কমিয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর সক্ষমতা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন মাসুদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের পয়সা না দিলে আমরা শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা না, আরও ৪০ হাজার টাকা দিতে পারতাম। আমাদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেন। শ্রমিকদের কত টাকা বেতন দিতে হয়, আমরা দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত টাকা দিতে দিতে মালিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। বছরে লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা এই টাকা তো আমার শ্রমিকদের দিতে পারত।’

শ্রমিকদের আবাসন, রেশনিং ও চিকিৎসাসেবায় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনগুলোর ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার প্রসঙ্গ তুলে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা শত শত কোটি টাকা এফডিআর করে রাখবেন ব্যাংকে, আর ক্রাইসিসে আপনারা কন্ট্রিবিউট করতে পারবেন না, এটা হতে পারে না। আপনারা এই টাকা শ্রমিকদের ও মালিকদের সহযোগিতায় ব্যবহার করেন। শ্রমিকদের জন্য কন্ট্রিবিউট করেন। কেন শুধু সরকারকে রেশনের কথা বলছেন? আপনি কেন না? আপনি কেন কন্ট্রিবিউট করতে পারেন না? আপনি কেন ডরমিটরি তৈরি করতে পারেন না? আপনি কেন রেশনিং চালু করতে পারেন না?’

এসব উদ্যোগে ব্যবসায়ীরাও সহযোগিতা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক ভালো থাকলে শিল্পও ভালো থাকবে। শ্রমিক সুস্থ থাকলে প্রোডাক্ট অসুস্থ প্রোডাক্ট বের হবে না।’

শ্রমিকদের কল্যাণে শুধু সরকারের ওপর দায়িত্ব না চাপিয়ে মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদেরও কন্ট্রিবিউশন লাগবে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। আমরা শ্রমিকের ৩০ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকা, ৩২ হাজার টাকা এটা আমাদের কোনো ব্যাপার না। এটা মজুরি কমিশন ব্যবস্থা করবে। এটা সরকার ব্যবস্থা করবে। আমরা সরকারের সঙ্গে থাকব, পাশে থাকব।’

সর্বশেষ

জনপ্রিয়