রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা, দেবীরূপে পূজিত শ্রেয়সী
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর দেবীরূপে পূজিত হয়েছে ছয় বছর বয়সী শিশু শ্রেয়সী ভট্টাচার্য।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নগরীর মিশনপাড়া এলাকায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে পূজা-অর্চনা ও নানা ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা সম্পন্ন হয়। কুমারী হিসেবে পূজিত শ্রেয়সী ভট্টাচার্যের বয়স ৬ বছর ৬ মাস ১৮ দিন। সে চাষাঢ়ার বেইলী টাওয়ারে অবস্থিত আনন্দ ভুবন স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা ডা. সুমন ভট্টাচার্য ও মা অর্পিতা ভট্টাচার্য। তাঁদের বাসা নগরীর গলাচিপা এলাকায়।
সকাল থেকেই রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম শুরু হয়। এ সময় ধর্মীয় সংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে শ্রেয়সী ভট্টাচার্যকে কুমারী আসনে দেবীরূপে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
কুমারী পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সভাপতি তারাপদ আচার্য্য বলেন, কুমারী পূজা দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ নয়জন কিশোরীকে দেবীরূপে পূজা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন স্থানে কুমারী পূজার আয়োজন হয়ে আসছে।
তিনি বলেন, সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কুমারীর মধ্যে দেবী দুর্গার পবিত্র মাতৃরূপের প্রকাশ ঘটে। সেই বিশ্বাস থেকেই কুমারীকে দেবীরূপে পূজা করা হয়। শ্রী রামকৃষ্ণের মাতৃভাবনায় নারীকে দেবীরূপে সম্মান করার যে শিক্ষা রয়েছে, কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে সেই ভাবধারার প্রতিফলন ঘটে।
তারাপদ আচার্য্য আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও মহাঅষ্টমীর পূজা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করি।’
কুমারী পূজা দেখতে আসা ভক্ত অর্পিতা রায় বলেন, ‘আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল কুমারী পূজা দেখার। এখানে এসে এত মানুষের সমাগম দেখে খুব ভালো লাগছে। আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা, সবাই যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে এবং সবার মঙ্গল হয়।’
আরেক ভক্ত প্রিয়াঙ্কা সাহা বলেন, ‘মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, দেশের সব অশান্তি দূর হয়ে যাক। সবাই যেন সুন্দরভাবে পূজা উপভোগ করতে পারে। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করে দেশের জন্য কিছু করতে চাই। পূজায় এসে নৃত্য পরিবেশন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’
মহাঅষ্টমীর কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণে ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। ঢাকঢোলের বাদ্য, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আশ্রম প্রাঙ্গণ। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী হাজারো মানুষ কুমারী পূজা দেখতে সমবেত হন।





































