১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে সাবেক পুলিশ সদস্য
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুঁইগড় রূপায়ণ টাউনে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজিয়া সুলতানা নামে এক বাসিন্দা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত মানফা এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার ও সাবেক পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ বিপ্লব মিয়া।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে রূপায়ণ টাউনে পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, রূপায়ণ টাউনে তাঁর পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। শুধু তাঁর পরিবার নয়, বিভিন্ন সময় অন্য বাসিন্দাদেরও নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাকে, কালকে আরেকজনকে, পরশু আরেকজনকে এভাবে নিয়মিত চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।’
রাজিয়ার দাবি, আর্থিকভাবে তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তাঁর ছেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার কারণেই তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার তাঁর বাসায় লোক পাঠানো হয়েছে। রূপায়ণ টাউনের কার্যালয়ে থাকা কয়েকজনকে দিয়ে বিভিন্ন বাসিন্দাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাঁর কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাজিয়া।
রাজিয়ার অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তাঁকে হুমকি দিয়েছেন। তাঁর স্বামী অসুস্থ এবং সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পরও পরিবারটিকে হয়রানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মানফা এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার ও সাবেক পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ বিপ্লব মিয়া।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারি, আমার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়েছে। আমি চাঁদাবাজি কিংবা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’
বিপ্লবের দাবি, রাজিয়া সুলতানার পরিবারের কাছে বিভিন্ন ব্যক্তির টাকা পাওনা থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে রূপায়ণ টাউনের বাইরের ১৯ ব্যক্তি বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, পাওনাদারদের অভিযোগ নিয়ে রূপায়ণ টাউনের ভেতরে একটি বৈঠক হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে কারও কাছে চাঁদা চাওয়ার ঘটনা ঘটেনি এবং বৈঠকের শুরুতে তিনি উপস্থিতও ছিলেন না।
বিপ্লব বলেন, ‘মিটিং শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে আমি সেখানে যাই। সেখানে সিদ্ধান্তের কথা শুনেছি যে, পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তাঁর দাবি, ওই বৈঠকে রূপায়ণ টাউনের ২০ থেকে ৩০ জন বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেছে এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে স্বেচ্ছায় হাজির হবেন বলেও জানান।
দুই পক্ষের মধ্যে আগে কোনো বিরোধ ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব বলেন, তাঁরা দুজনই রূপায়ণ টাউনের বাসিন্দা। বিভিন্ন ব্যক্তির পাওনা টাকার অভিযোগের সূত্রে রাজিয়ার পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে এর বাইরে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
বিপ্লব আরও দাবি করেন, রাজিয়া সুলতানার পরিবারের কাছে সার্ভিস চার্জ ও বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন পাওনা রয়েছে। পাশাপাশি বাইরের কয়েকজন ব্যক্তিও তাঁদের কাছে টাকা পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে রূপায়ণ টাউনের পরিবেশ ও সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এমন অভিযোগের পর সোসাইটির পক্ষ থেকে বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তবে রাজিয়া সুলতানার ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ কিংবা বিপ্লব মিয়ার পাল্টা পাওনা টাকার অভিযোগ কোনোটিরই সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চাঁদা দাবির অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানায় রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন।





































