০৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২:৪০, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আড়াইহাজারে নারী শ্রমিককে ‘ধর্ষণের’ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ

আড়াইহাজারে নারী শ্রমিককে ‘ধর্ষণের’ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মেলা থেকে এক নারী শ্রমিককে তুলে নিয়ে তাঁর স্বামী ও ভাইকে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি এবং ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলা সংলগ্ন একটি মেলা থেকে স্বামী ও ছোট ভাইসহ তাঁকে রবিন নামে এক যুবকের নেতৃত্বে ৭-৮ জন তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে একটি ভবনের নিচতলায় আটকে রাখা হয়।

ওই নারী শ্রমিকের ভাষ্য, পরে তাঁদের কাছে মোবাইল ফোন চাওয়া হয়। ফোন সঙ্গে না থাকায় তাঁদের কাছ থেকে বাসার ঠিকানা নিয়ে রবিনসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে ফোন নিয়ে আসে। এরপর তাঁদের কাছে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারার কথা জানালে তাঁর স্বামী ও ভাইকে এক পাশে রেখে তাঁকে ভবনের অন্য পাশে নিয়ে ৭-৮ জন ধর্ষণ করে। রাত ৩টার দিকে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরদিন শুক্রবার সকালে ওই নারী রবিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়ে আড়াইহাজার থানায় যান। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করে। প্রথমে ডাক্তারি পরীক্ষার কথা বলা হলেও পরে সেটিও করা হয়নি।

ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজারের একটি স্পিনিং মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

তবে আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল বাছেদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভুক্তভোগীর শরীরে যে ধরনের আলামত থাকার কথা, প্রাথমিকভাবে তা পাওয়া যায়নি। এ কারণে ধর্ষণের মামলা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি।

তবে, ওই নারীর সঙ্গে রবিনের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, থানার ওসি তাঁকে ঘটনাটি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ভুক্তভোগী নারীকে ছিনতাইয়ের মামলা করতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়