সিদ্ধিরগঞ্জে তিন খুনের মামলায় আপস চেষ্টার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই বোন ও চার বছরের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা আপসের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতদের স্বজন সোনামিয়া (৪৮) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে সোনামিয়া দাবি করেন, হত্যা মামলার বাদী মুনমুন আক্তার ও তাঁর স্বামী মো. রুবেলকে আসামিপক্ষ নিজেদের সঙ্গে নিয়ে গেছে। এরপর থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই মুনমুন মামলাটি আপস-রফার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সিদ্ধিরগঞ্জের পশ্চিম মিজমিজি এলাকায় স্বপ্না আক্তার (৩৫), তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার (২২) ও লামিয়ার চার বছর বয়সী ছেলে আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁদের মরদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়া স্থান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত লামিয়া ও স্বপ্নার বোন মুনমুন আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লামিয়ার স্বামী ইয়াছিন (২৪), তাঁর বাবা দুলাল মিয়া (৫০) ও বোন শিমুকে (২৭) আসামি করা হয়। ঘটনার পর ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
স্বপ্না ও লামিয়ার চাচা সোনামিয়া অভিযোগে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে দুই দিন আগে মামলার আসামিদের মধ্যে দুজন মুনমুনের স্বামী রুবেলের বাসায় যান। পরে রুবেল ও মুনমুন তাঁদের সঙ্গে চলে যান বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
সোনামিয়ার দাবি, গত দুই দিন ধরে মুনমুন ও তাঁর স্বামী আসামিপক্ষের সঙ্গে অবস্থান করছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই তাঁরা হত্যা মামলাটি আপস-রফার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার মূল বাদীকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে হত্যা মামলা আপস-রফা বা প্রত্যাহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সোনামিয়া। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা সুরুজ মিয়াকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
তবে আপস-রফার অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বাদী মুনমুন আক্তার বলেন, “খুন করছে ইয়াছিন। বাকি দুজনের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তাদের বিষয়ে আমি আপসনামা দিয়েছি। এটা কোনো জোরজবরদস্তি নয়, আমি নিজে থেকেই করেছি।”
যেভাবে ঘটেছিল তিন খুন
২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় স্বপ্না আক্তার, তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার ও লামিয়ার শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনজন নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর লামিয়ার স্বামী ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মুনমুন আক্তার বাদী হয়ে ইয়াছিনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতদের বাড়িসংলগ্ন পুকুর থেকে রক্তমাখা জামাকাপড় এবং পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সে সময় জানিয়েছিল, পারিবারিক কলহের জেরে দুই বোনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় এবং শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বস্তাবন্দী করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।





































